kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

ইফার পরামর্শ

মসজিদে আট ধরনের ব্যক্তি যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্দিষ্ট আট ধরনের ব্যক্তিকে মসজিদে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। একই সঙ্গে যারা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা অনুভব করে তাদেরও বাসাবাড়িতে নামাজ আদায়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ কমিটিকেও আটটি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সারা বিশ্বের সঙ্গে দেশেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে গত ২৪ মার্চ দেশের খ্যাতনামা আলেমদের নিয়ে বৈঠক করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ওই বৈঠকে মসজিদে মুসল্লিদের সংখ্যা সীমিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, মসজিদ বন্ধ থাকবে না। বাস্তবতা হলো, মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা সীমিত রাখার পরামর্শের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। মসজিদগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের মতোই মুসল্লির সমাগম দেখা গেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ২৯ মার্চ আরেকটি বৈঠকের আয়োজন করে। ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ বন্ধ রাখার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে করণীয় সম্পর্কে আলেমদের পরামর্শ চাওয়া হয়।

বৈঠকে কোনো কোনো আলেম মত ব্যক্ত করেন, মসজিদ খোলা থাকবে, তবে মুসল্লিরা আসবে না। শুধু মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা জামাতে নামাজ আদায় করবেন। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও মুসল্লিদের অংশগ্রহণে নামাজ বন্ধ করার বিরোধিতা করেন বেশির ভাগ আলেম। এ অবস্থায় মসজিদে মুসল্লির আগমন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

সর্বশেষ গতকাল ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মসজিদে আজান, ইকামত, জামাত ও জুমার নামাজ অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে আট ধরনের মুসল্লিকে মসজিদে না আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা হলো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা-শ্বাসকষ্ট আছে, আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে আগত, উপরোক্ত মানুষের সংস্পর্শে এসেছে, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, বয়োবৃদ্ধ, দুর্বল নারী-শিশু এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি। এ ছাড়া যারা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা অনুভব করে তাদেরও মসজিদে না আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইফার পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, বর্তমান বাস্তবতায় যাবতীয় সুরক্ষা নিয়ে মসজিদে যাওয়া, বাড়ি থেকে ওজু করে নফল ও সুন্নত নামাজ আদায় করে শুধু জামাতের সময়ে মসজিদে যাওয়া এবং দ্রুত চলে আসা উচিত হবে। একই সঙ্গে ইফা মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ কমিটিকে আটটি পরামর্শ দিয়েছে। এগুলো হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে পুরো মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা, জামাত সংক্ষিপ্ত করা, জুমার বয়ান, খুতবা ও দোয়া সংক্ষিপ্ত করা, দরসে হাদিস, তাফসির ও তালিম স্থগিত রাখা, ওজুখানায় পর্যাপ্ত সাবান ও টিস্যু রাখা, জামাতের কাতারে ফাঁকা হয়ে দাঁড়ানো, ইশরাক, তিলাওয়াত, জিকির ও অন্যান্য আমল ঘরে বসে করা, কোনো মসজিদে বিদেশি কেউ অবস্থান করলে তার সম্পর্কে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নেওয়া।

গতকালের সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন ইফার মহাপরিচালক আনিস আহমেদ। সভায় হেফাজতে ইসলামের আমির ও আল জামিয়াতুল দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আহমদ শফী, চট্টগ্রামের আল জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক মুফতি আবদুল আলীম বোখারী, গওহরডাঙ্গা মাদরাসার নায়েমে তালিমাত মুফতি নুরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইউনুছিয়া মুহতামিম মোবারকুল্লাহসহ আরো অনেক আলেমের পরামর্শ নেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা