kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

৭৮৭ দিন পর কার্যালয় ছেড়ে বাসায় রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৭৮৭ দিন পর কার্যালয় ছেড়ে বাসায় রিজভী

ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিতের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বাসায় ফিরেছেন। এরপর দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদও এবার দলীয় কার্যালয় ছেড়ে নিজ বাসায় ফিরে গেলেন। টানা ৭৮৭ দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দলীয় কার্যালয় ছেড়ে তিনি আদাবরের বাসায় চলে যান। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে যতটুকু সময় দরকার ঠিক ততটুকু সময় দলীয় কার্যালয়ে থাকবেন। 

রিজভী বলেন, ‘২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলো। তখন থেকেই আমার একটা ব্রত ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করব এবং সারা দেশের নেতাকর্মীরা যেন তাদের রাজনৈতিক কোনো কাজের জন্য দলীয় কার্যালয়ে এসে বিমুখ না হয়। সব কিছু বিবেচনায় নিয়েই আমি এখানে অবস্থান করেছি।’ তিনি বলেন, ‘ব্রত ছিল দেশনেত্রীর মুক্তির পরে আমি বাসায় ফিরব। নেত্রীর বুধবার মুক্তি হয়েছে। সে জন্য আমিও বাসায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তবে বাসায় ফিরলেও প্রতিদিন তিনি কার্যালয়ে যাবেন। কিন্তু আগের মতো রাতে থাকা আর সেভাবে হবে না বলে জানান।

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালে তৃতীয় তলার একটি ছোট্ট কক্ষে থাকতেন রিজভী। এ সময় তাঁর যেসব বইপত্র ছিল তাও গতকাল কয়েকটি বস্তায় ভরে আদাবরের বাসায় নেওয়া হয়।

২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি রাতে বাসা থেকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান রিজভী। এরপর থেকে বিরামহীন অফিসে অবস্থান করে নিয়মিত গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফ করতেন সরকারবিরোধী আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে। তাঁর রাত-দিন অফিসে অবস্থান নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা দুটিই ছিল। মাঝেমধ্যে সহধর্মিণী আনজুমান-আরা আইভি দলীয় কার্যালয়ে যেতেন স্বামীর খোঁজখবর নিতে।

চিকিৎসা জরুরি অবস্থা জারির আহ্বান

এদিকে গতকাল এক ভিডিও কনফারেন্সে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় অবিলম্বে বাংলাদেশে ‘চিকিৎসা জরুরি অবস্থা’ জারির আহ্বান জানিয়েছেন রিজভী। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ কথা বলেন।

চিকিৎসা জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশে কভিড-১৯ সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় টেস্ট কিট, চিকিৎসকদের পিপিই কিংবা হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউর প্রচণ্ড অভাব। সারা দেশের হাসপাতাল থেকে হাজার হাজার স্যাম্পল আসছে অথচ টেস্ট করতে পারছে মাত্র ৭০-৮০টি।’ এই অপ্রস্তুত দৃশ্যপটের মধ্যে সামনে আরো কঠিন পরিস্থিতি ধেয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গোটা দেশবাসী শঙ্কিত এবং আতঙ্কিত। এ অবস্থার দ্রুত অবসান হওয়া জরুরি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা