kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা পরিস্থিতিতে ফাঁকা হচ্ছে নগর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা পরিস্থিতিতে ফাঁকা হচ্ছে নগর

করোনাভাইরাস আতঙ্কে রাজধানীর সড়ক এখন অনেকটাই ফাঁকা। ছবিটি কুড়িল বিশ্বরোড থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে। এরই মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছেড়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। সচেতনতার অংশ হিসেবে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান বাসা থেকে অফিস করার অনুমতি দিয়েছে। ফলে দেশের বড় শহরের চিরচেনা সেই কর্মব্যস্ততা আর নেই।

সম্প্রতি রাজধানী ঘুরে এবং বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া খবরে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকার সড়কগুলোয় গণপরিবহন কমে গেছে। খাবারের দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোও ফাঁকা। অফিসগামী মানুষ ছাড়া সড়কে লোকজনও কমে গেছে। বাসচালকদের মধ্যে আগের মতো প্রতিযোগিতা নেই। রিকশা, অটোরিকশা ও অ্যাপভিত্তিক পরিবহন ব্যবহারে ঝোঁক বেশি।

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোয়ও এ ধরনের পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। দূরপাল্লার অনেক রুটে বাসসেবা বন্ধ করে দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

পরিবহনচালকরা বলছেন, করোনার কারণে লোকজন বাইরে বের হয় অনেক কম। এর প্রভাব পড়ছে সব জায়গায়। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসমাগম এড়িয়ে, পরিচ্ছন্নতা বিধি মেনে চলার পরামর্শের পর বদলে গেছে রাজধানীর চিত্র। যেখানে যাত্রীরা দৌড়ঝাঁপ দিয়ে বাসে ওঠা বা ঝুলে ঝুলে গন্তব্যে যেত সেখানে এখন গণপরিবহনগুলো দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে যাত্রী পাচ্ছে না।

গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় দীর্ঘ সময় থেকে দেখা যায়, বিআরটিসি কাউন্টারে যাত্রী থাকলেও লোকাল বাসে যাত্রী নেই। আকাশ, ভিক্টর ক্লাসিক, গ্রামীণ, শুভেচ্ছা, আজমেরী, বিহঙ্গ, সাভার পরিবহন, তানজিল, ৭ নম্বরসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাসে যাত্রী কম। সদরঘাট থেকে দিয়াবাড়িগামী আকাশ পরিবহনের একটি বাসের চালক বুলু মিয়া বলেন, ‘যাত্রী নাই ভাই। যাত্রী ছাড়া গাড়ি চালাইলে মালিকরে টাকা দিমু কি? আর আমরা বেতন পামু ক্যামনে?’

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির রহমান যাবেন দাউদকান্দি। তাই গুলিস্তানে বিআরটিসি কাউন্টারে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কলেজ বন্ধ। বাসায় থাকতে বলা হয়েছে। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি। ওখানেই নিজেকে নিরাপদ মনে হচ্ছে। রাজধানীর পরিবেশের কোনো বিশ্বাস নেই! কখন কী হয়।’

খাবার ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে করোনা পরিস্থিতির। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পান্থপথে ক্লাউড বিস্ট্রো, ধানমণ্ডির কেএফসি, কুড়িল চৌরাস্তায় হোটেল প্রগতি, ফায়ার অ্যান্ড ফ্রেম, চানখাঁরপুলের ধানসিঁড়ি, মামা বিরিয়ানি, হাজি নান্না বিরিয়ানিসহ বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখা যায় সেগুলো প্রায় ফাঁকা। রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার রুহুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। তার পরও মানুষ রেস্তোরাঁয় খেতে আসছে না। খাবার পার্সেলও কমে গছে। যেগুলো অর্ডার ছিল সেগুলোও বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এভাবে ক্রেতা কমতে থাকলে হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাবে।’

সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। ফ্যাশন শো থেকে চলচ্চিত্র, নাটক, কনসার্ট, মেলা বা নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন করোনাভাইরাসের কারণে একের পর এক বাতিল হয়ে যাচ্ছে। সারা দেশে বন্ধ রাখা হয়েছে প্রেক্ষাগৃহ। বাতিল করা হয়েছে সারা দেশের শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। করোনার বিরূপ প্রভাবে মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। 

গতকাল শিল্পকলা একাডেমি ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো প্রাণচাঞ্চল্য নেই। প্রতিদিন সন্ধ্যায় যেখানে লেগেই থাকত মানুষের ভিড়ভাট্টা, সেখানে বিরাজ করছে ভূতুড়ে অবস্থা। রাজধানীর আর্ট গ্যালারি, বিভিন্ন নাট্যমঞ্চে, প্রেক্ষাগৃহেও একই দৃশ্য। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে জনসমাগম তৈরি হয় এমন সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠনকে অনুরোধ জানাই।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা