kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

বাংলাদেশে মেলেনি করোনা

এর পরও বড় প্রস্তুতির তাগিদ বিএমআরসির গোলটেবিলে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের কোনো হাসপাতালেই উপযুক্ত মানের আইসোলেশন করা হচ্ছে না। যা করা হয়েছে বা হচ্ছে, সেগুলো দেশে করোনাভাইরাস ঢুকলে তেমন কোনো কাজে আসবে না। বরং জনবহুল হাসপাতালগুলোতে অন্য রোগীদের জন্য বড় বিপদ বয়ে আনবে। তাই যতটুকু প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এর সঙ্গে আরো বড় করে পরিকল্পনা করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল-বিএমআরসি আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা এ অভিমত তুলে ধরেন।

তবে বৈঠকে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করা হয় এখনো বাংলাদেশে কারো মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত না হওয়ায়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই বলেও জানানো হয়।

সভায় বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত, বিএমআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, জাতীয় অধ্যাপক ডা. শাহলা খাতুন, স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান, আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) শাহনীলা ফেরদৌসী, আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, বিএমআরসির পরিচালক ডা. মাহমুদ উজ জাহানসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন জানান, করোনাভাইরাস সন্দেহে দেশে এ পর্যন্ত ৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের কারো মধ্যেই করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন মেডিক্যাল সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়েছে চীন সরকারের কাছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের হাতে মেডিক্যাল সামগ্রীর একটি বক্স তুলে দেন। এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০ লাখ পিস হ্যান্ড গ্লাভস, পাঁচ লাখ পিস মাস্ক, দেড় লাখ পিস ক্যাপ, এক লাখ পিস হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ৫০ হাজার পিস জুতার কভার এবং আট হাজার পিস গাউন। এর সব কিছুই বাংলাদেশের তৈরি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ‘চীনের বিপর্যস্ত অবস্থায় আমরা তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি আমাদের সাধ্যমতো।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে নির্দেশমতো আমরা এই সামগ্রী চীনকে দিয়েছি।’

অন্যদিকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ এখনো করোনাভাইরাসমুক্ত আছে।’

এদিকে হবিগঞ্জে চীনফেরত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরীক্ষায় তাঁর শরীরে করোনাভাইরাস না পাওয়ায় হবিগঞ্জের মানুষের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা