kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

হুঁশিয়ারিতেও দমেননি বিএনপির বিদ্রোহী কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা

শফিক সাফি   

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রথমে অনুরোধ, পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নির্দেশ—সর্বশেষ সতর্ক করে চিঠি। তিন দফা চেষ্টা করেও দমানো যায়নি বিএনপির বিদ্রোহী কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের। তাই এবার তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে চিঠি ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। গতকাল থেকে কাউন্সিলর বরাবর চিঠি ছাড়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখনো বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে যাঁরা রয়ে গেছেন, তাঁদের নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা বিশ্বাস করি, শেষ সময়ে হলেও তাঁরা দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।’

তবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আবুল বাসার এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উত্তরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আহসান উল্লাহ হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিন দফা অনুরোধের পরও যেসব প্রার্থী বিদ্রোহী হিসেবে রয়ে গেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসছে। আমরা তাঁদের সর্বশেষ সুযোগ দিয়েছি। যাঁরা দলের সিদ্ধান্ত মানেননি, তাঁদের বরাবর সাংগঠনিক চিঠি যাচ্ছে।’

জানা গেছে, ৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এসব কাউন্সিলর প্রার্থীকে বিএনপির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সে সময় হাতে গোনা কয়েকজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন। পরে ১৬ জানুয়ারি দক্ষিণের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে এবং ১৮ জানুয়ারি উত্তরের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। ওই বৈঠকের পরও যাঁরা নির্বাচনী মাঠে থেকে গেছেন তাঁদের চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয় ২০ জানুয়ারি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকটি ওয়ার্ডে সব ধরনের চেষ্টার পরও ‘বিদ্রোহীদের’ সরানো যায়নি। কোথাও কোথাও আবার বিএনপির মহানগরের নেতারা প্রকাশ্যেই কাজ করছেন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে। যেমন—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড। বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন মাহফুজ হোসেন খান। কিন্তু এখনো এই ওয়ার্ডে তিন জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়ে গেছেন। তাঁরা হলেন—হাবীবুর রহমান, রাহাদুল ইসলাম রিপন ও আমজাদ হোসেন। আবার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম কাজল হলেও এখানে বিদ্রোহী হিসেবে রয়ে গেছেন আবুল হাসেম মিয়া ও নজরুল ইসলাম বাবু। উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১টি ওয়ার্ডে সরাসরি বিএনপির মহানগরের নেতারা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়ে গেছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে বিএনপি বা ঢাকা মহানগরের কোনো পদে নেই অথচ বিএনপি করেন এমন বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যাও আটজন।

এ ছাড়া ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তহিরুল ইসলাম তুহিনের বিরোধিতা করতে গিয়ে সরাসরি আওয়ামী লীগের কাউন্সিল প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন মাহফুজুর রহমান। তিনি সংগঠনটির ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সম্পাদক। তুহিন বিষয়টি জানিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তুহিন বলেছেন, তাঁর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চাচ্ছেন মাহফুজুর রহমান।

সূত্রগুলো বলছে, উত্তর সিটিতে যাঁরা বিদ্রোহী হিসেবে রয়ে গেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন—৫ নম্বর ওয়ার্ডে বুলবুল মল্লিক, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাম বাসার, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সোলায়মান দেওয়ান, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে একরাম হোসেন বাবুল, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল মেসের, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল হাসেম, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ফরিদ উদ্দিন ফরহাদ, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ আলী, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে হেলাল মাতবর।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিদ্রোহী কাউন্সিলরের সংখ্যা ১২। তাঁরা হলেন—১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম জুয়েল, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আবু নাছের লিটন, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে মো. সুমন ভূইয়া, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো. মোজাম্মেল হক মুক্তা, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে মো. সোহেল, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঢালী মামুনুর রশিদ, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. কাবির আহম্মেদ, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে বাদল রানা, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শহিদুল হক, ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডে খোরশেদ আলম খোকন, ৬১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শাহ আলম, ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে মো. নুরউদ্দিন মিয়া।

বিদ্রোহী কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দল থেকে বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্ত এলেও তাঁরা নির্বাচন থেকে সরবেন না। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাহাদুল ইসলাম রিপন কালের কণ্ঠকে বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণের চাওয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়েই তিনি নির্বাচনে লড়ছেন। দলের পক্ষ থেকে যেকোনো সিদ্ধান্ত এলেও তিনি নির্বাচনে থাকছেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা