kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

চান্দিনায় মহাসড়কে খণ্ডবিখণ্ড লাশ

প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় খুন

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এক দোকানির ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার ঘটনার ১০ দিন পর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় এই চা দোকানি মো. নাছির উদ্দিনকে (২৬) এভাবে হত্যা করা হয়।

গতকাল কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে মোয়াজ্জেম হোসেন (২৫) ও অটোরিকশাচালক সানাউল্লাহ (২৪) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করার পর হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য জানতে পারে পুলিশ।

গত ১৩ জানুয়ারি সকালে চান্দিনা উপজেলার ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা থেকে নাছির উদ্দিনের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন মরদেহের অংশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। মহাসড়কসংলগ্ন নাওতলা মাদরাসা এলাকায় চায়ের দোকান রয়েছে নাছিরের বাবার। লাশটি উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সড়ক দুর্ঘটনা বলে সন্দেহ করলেও নিহতের বাবা রবিউল্লাহ দাবি করেন তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে তিনি দোকানে রক্তের চিহ্ন দেখান পুলিশকে।

পরে চান্দিনা থানা পুলিশ নাওতলা মাদরাসা এলাকায় মহাসড়কসংলগ্ন ওই চা দোকানের কয়েকটি স্থানে ও কম্বলে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখে। গত সোমবার রাতে নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে চান্দিনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

চাঞ্চল্যকর এমন হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় নানা রকম গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। দোকানে রাখা টাকা লুট কিংবা কোনো ক্রেতার সঙ্গে ঝামেলাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। এর মধ্যেই এই হত্যারহস্য উদ্ঘাটন করতে মাঠে নামে চান্দিনা থানা পুলিশসহ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিআইডি ও পিবিআই। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গত বুধবার দুপুর ২টায় চান্দিনা এলাকা থেকে মোয়াজ্জেম (২৫) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। তিনি জানান, সানাউল্লাহ নামের আরেক ব্যক্তি মিলে এই খুন করেন। তবে হত্যাকাণ্ডের পর যাতে তাঁদের কেউ সন্দেহ করতে না পারে সে জন্য তাঁরা এলাকা ছাড়েননি। পরে বুধবার রাত ৮টার দিকে চান্দিনার নাওতলা এলাকা থেকে ঘটনার মূল হোতা অটোরিকশাচালক সানাউল্লাহকে (২৪) আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, সানাউল্লাহ পেশায় অটোরিকশাচালক। গত ৭ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে সানাউল্লাহসহ চার-পাঁচজন মিলে নাওতলা এলাকার এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি দেখে বাধা দেন নাছির। ধর্ষণের পর কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি থাকে। আর ধর্ষণে জড়িত সানাউল্লাহ এলাকায় ঘুরে বেড়ান। প্রতিবন্ধীর বাবা সামাজিক মর্যাদার কারণে মামলা না করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করেন। পরে সানাউল্লাহ ১২ জানুয়ারি  নাছির উদ্দিনের দোকানে আসেন। তাঁকে দেখেই নাছির ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করল, আবার ধর্ষণ করে কিভাবে এলাকায় ঘুরছে—এই প্রশ্ন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সানাউল্লাহ। এ সময় কথা-কাটাকাটি হয়। সবার সামনে নাছির উদ্দিন সানাউল্লাহকে এসব কথা বলায় ক্ষুব্ধ হয়।

পুলিশ আরো জানায়, এই কথা-কাটাকাটির পর ওই দিন অর্থাৎ ১২ জানুয়ারি রাতে সানাউল্লাহ তাঁর সহযোগী মোয়াজ্জেমকে নিয়ে প্রতিশোধ নিতে নাছিরের দোকানে যান। সেখানে দা দিয়ে নাছিরকে কয়েকটি কোপ দেন সানাউল্লাহ। জীবন বাঁচাতে নাছির দৌড়ে মহাসড়কের দিকে যান। সেখানে কুপিয়ে নাছিরের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর রক্তমাখা দা ধুয়ে দোকানে রেখে পালিয়ে যান তাঁরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা