kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

শিশু, তরুণী ও পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর সবুজবাগের উত্তর বাসাবো এলাকায় শিশু, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নারী পোশাক শ্রমিক এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে কলাপাড়ার নারীকে অপহরণের পর যৌন নির্যাতন করা হয়।

সবুজবাগের উত্তর বাসাবো এলাকায় গত ১৬ জানুয়ারি সকালের ঘটনায় গত বুধবার রাতে সবুজবাগ থানায় মামলা করে শিশুটির পরিবার। আসামির নাম জুবায়ের। তিনি শিশুটির পরিবারের পরিচিত।

সবুজবাগ থানার ওসি মো. মাহবুব আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, শিশুটির (৭) মা-বাবা চাকরি করেন। ১৬ জানুয়ারি তার মা-বাবা কাজের জন্য বাইরে যান। এ সুযোগে জুবায়ের শিশুটিকে তাঁর কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নে গত শনিবার রাতে ঢাকার পোশাক কারখানার এক শ্রমিককে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। গত রবিবার নির্যাতিতা নারীর মা কলাপাড়া থানায় মামলাটি করেন। প্রধান আসামি হলেন ধানখালীর লোন্দা গ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পলাশ মোড়ল। অন্য আসামিরা হলেন নকিব দেওয়ান, দোলন গাজী ও পলাশের স্ত্রী শিল্পী বেগম। নকিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নির্যাতিতা নারী জানান, গত শুক্রবার তিনি বাড়িতে মায়ের কাছে বেড়াতে আসেন। শনিবার রাতে নিজ ঘরে জায়গা সংকট থাকায় তিনি পার্শ্ববর্তী দাদির ঘরে ঘুমাতে যান। পলাশ মোড়ল সেখানে গিয়ে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ইয়াবা সেবন করেন। পরে তিনি তাঁকে (পোশাক শ্রমিক) গলায় ছুরি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে একটি বাগানে নিয়ে যৌন নির্যাতন করেন। ভোররাতে তাঁকে বাড়িটিতে রেখে কাউকে ঘটনা জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান পলাশ। একপর্যায়ে পোশাক শ্রমিককে ঢাকায় যেতে বাধ্য করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, নির্যাতিতা নারীর পরিবারসহ গ্রামের দরিদ্ররা সন্ত্রাসী পলাশ মোড়ল বাহিনীর অত্যাচারে ভীত। এর ধারাবাহিকতায় পলাশের স্ত্রী স্বামীর ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে নির্যাতিতা নারীর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন এবং নির্যাতিতাকে গ্রাম ছেড়ে যেতে বাধ্য করেন।

ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ তালুকদার জানান, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ওপর হামলা, স্থানীয় দরিদ্র মানুষদের জিম্মি করে নির্যাতনসহ নানা অপকর্মে জড়িত পলাশ।

কলাপাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গত মঙ্গলবার রাতে এক তরুণীকে কথা বলার জন্য ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নির্যাতিতা তরুণী বুধবার রাতে নাঙ্গলকোট থানায় মামলা করেন। রাতেই অভিযুক্ত মো. শাহিনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে গতকাল বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। শাহিন উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের আজিয়াপাড়া তেতৈয়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। গতকাল তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহিন গ্রামে মুদি মালের ব্যবসা করেন। সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে তিনি স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়া ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন। গত মঙ্গলবার রাতে বাড়ির পাশে নির্জন স্থানে তাঁকে কথা বলার জন্য ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। তরুণীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে শাহিন পালিয়ে যান।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তরুণীর মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা এবং কলাপাড়া (পটুয়াখালী) ও নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি]

মন্তব্য