kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন

সব বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিবৃত্ত করতে পারছে না বিএনপি

কালকের পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা

শফিক সাফি   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয়ী হতে হলে নিজ দলের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধেও লড়তে হবে। কেননা দল সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিএনপির এখনো ৩১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়ে গেছেন। দলের পক্ষ থেকে তাঁদের ডেকে বৈঠকের পরও এসব প্রার্থী সরে যেতে নারাজ। সিটি নির্বাচন বিষয়ে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁদের বলেছেন, ২০ জানুয়ারি সোমবারের মধ্যে তাঁরা সরে যাওয়ার ঘোষণা না দিলে দলের গঠনতন্ত্রে থাকা নিয়ম অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেসব ওয়ার্ডে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন তাঁদের বুঝিয়ে বসিয়ে দিতে চেষ্টা করছি। এ পর্যন্ত ছয়টি ওয়ার্ডে সফলও হয়েছি। তবে আজ পর্যন্ত (শনিবার) ১৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়ে গেছেন। তাঁদের নিয়ে কাল সকালে বৈঠক করব।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন, ‘আমরা শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বিভিন্ন থানার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেছি। সেখানে বিদ্রোহী হিসেবে থাকা নেতাদের বোঝানো হয়েছে। তাঁরা যদি ২০ জানুয়ারির মধ্যে সরে না যান, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা বহিষ্কারও হতে পারে।

উত্তর সিটিতে বিএনপির বিদ্রোহী ১৯ জন : ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জামাল হোসেন, ৫ নম্বরে বুলবুল আহম্মেদ মল্লিক, ৬ নম্বরে আমজাদ হোসেন, হাবিবুর রহমান, রাহাদুল ইসলাম রিপন, ৭ নম্বরে গোলাম রাব্বানী, ৮ নম্বরে সোলায়মান খান দেওয়ান, ১৬ নম্বরে সৈয়দ আকরাম হোসেন, ১৮ নম্বরে কাজী আব্দুল লতিফ, ২০ নম্বরে সেলিম আহমেদ রাজু, ২৩ নম্বরে আবুল মেসের, ২৫ নম্বরে হাশেম মিয়া ও জিয়াউর রহমান বাবু, ৩০ নম্বরে হাসেম মিয়া, ৩১ নম্বরে হাসিনা মোরশেদ কাকলী ও ফরিদ উদ্দিন ফরহাদ, ৩৪ নম্বরে ওসমান গণি শাহজাহান, ৩৭ নম্বরে আহমদ আলী এবং ৪৭ নম্বরে হেলাল তালুকদার।

দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির ১২ বিদ্রোহী : ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম, ১৫ নম্বরে আবু নাছের লিটন, ৩৭ নম্বরে সুমন ভূঁইয়া, ৩৯ নম্বরে মোজাম্মেল হক মুক্তা, ৪৬ নম্বরে মো. সোহেল ও ঢালী মামুনুর রশিদ, ৫১ নম্বরে কবির আহম্মেদ, ৫২ নম্বরে বাদল রানা, ৫৫ নম্বরে শহিদুল হক, ৫৯ নম্বরে খোরশেদ আলম খোকন, ৬১ নম্বরে শাহ আলম, এবং ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে নুরুউদ্দিন মিয়া।

এসব প্রার্থীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এলেও তাঁরা সরবেন না। এঁদের একজন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. নূর উদ্দিন মিয়া। তিনি ওই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। গত নির্বাচনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি জয়ী হয়েছিলেন। এবার তিনি নির্বাচনে থাকছেন বলে জানা গেছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী রাহাদুল ইসলাম রিপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষের কারণে আমি রেডিও মার্কা নিয়ে এবার নির্বাচন করছি। মাঠে প্রচারণায় রয়েছি। আমি নির্বাচিত হতে পারব বলে বিশ্বাস করি। তাই এবার শত চাপেও আমি বসব না।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি থেকে যাঁদের ডেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁরাই আমাদের প্রার্থী। অন্যরা নিজে থেকে নির্বাচন করছেন। তাঁদের দল থেকে বলা হয়েছে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে। তাঁরা তা না করলে অবশ্যই নির্দিষ্ট সময় পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য