kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কাউন্সিলর রাজিবের প্রায় সোয়া কোটি টাকা জব্দ

বিশেষ প্রতিবেদক   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারিকুজ্জামান রাজিবের প্রায় সোয়া কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংক হিসেবে থাকা এই টাকা জব্দের নির্দেশ দেন। এরপর দুদক ওই টাকা জব্দ করে। আদালত সূত্র জানায়, জমাকৃত টাকা বিভিন্ন ব্যাংকের সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবে জমা ছিল।

এর আগে গত ১৯ নভেম্বর রাজিবের ব্যবহৃত বিলাসবহুল তিনটি গাড়ি জব্দ করেছিল দুদক। জব্দকৃত গাড়ি তিনটি হলো একটি ডিফেন্ডার ব্র্যান্ডের জিপ গাড়ি, রিডো কার ও একটি পিকআপ গাড়ি। গাড়িগুলো মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করা হয়। জিপ গাড়িটি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ও বাকি দুটি মোহাম্মদপুর থানায় রাখা হয়েছে।

গত ৬ নভেম্বর রাজিবের বিরুদ্ধে ২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা করে দুদক। রাজিবের সম্পদের বিষয়ে এহাজারে বলা হয়, তাঁর অবৈধ সম্পত্তির মধ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর রোডের ৩৩ নম্বর প্লটে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি ও মোহাম্মপুরের কাঁটাসুরের ৩ নম্বর রোডে আরেকটি প্লট আছে। মোহাম্মদীয় হাউজিং লিমিটেডে চারতলা ও পাঁচতলা দুটি বাড়ি, চানমিয়া হাউজিংয়ে একটি তিনতলা বাড়ি রয়েছে। তাঁর চাচার নামে সাতমসজিদ রোডে আরেকটি চারতলা বাড়ি রয়েছে। অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থে এসব বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে। তাঁর নামে-বেনামে আরো কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। সব বাড়ির প্রকৃত মালিক রাজিব।

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, রাজিবের চাচা ইয়াছিন হাওলাদার একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। কিন্তু তাঁর নামেও বাড়ি-গাড়ি রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন স্থানে জমি। এসব সম্পদ অর্জনের কোনো বৈধ উৎস নেই। রাজিব কয়েক বছরে এগুলো করেছেন।

রাজিবের নামে দায়ের করা এ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা তাঁর টাকার সন্ধান পায় দুদক। পরে ওই টাকা জব্দ করার নির্দেশ চান আদালতের কাছে। গত ১ ডিসেম্বর রাজিবের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর দুদক তা জব্দ করে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানও চলে। তারই ধারাবাহিকতায় রাজিবকে ১৯ অক্টোবর রাতে বারিধারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং দখলদারির মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা