kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

হাইকোর্টে মিথ্যা তথ্য

নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ঢাকা ওয়াসার এমডি

♦ বুড়িগঙ্গায় পড়া স্যুয়ারেজ লাইন সরাতে ছয় মাস সময় পেল ওয়াসা
♦ পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ
♦ পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমে অসন্তোষ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ঢাকা ওয়াসার এমডি

বুড়িগঙ্গা নদীতে পড়া ঢাকা ওয়াসার সব স্যুয়ারেজ লাইন সরাতে সংস্থাটিকে ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওয়াসার করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ বাস্তবায়নে এক মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বুড়িগঙ্গায় ঢাকা ওয়াসার কোনো স্যুয়ারেজ পতিত হয়নি বলে গত ১৮ জুন সংস্থার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে দেওয়া অসত্য তথ্যের জন্য হাইকোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। আইনজীবীর মাধ্যমে এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালত ওই আবেদন রেখে দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, স্যুয়ারেজ লাইন সরানোর ওপর নির্ভর করে এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে।

এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া বুড়িগঙ্গার দুই তীরে গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে বর্জ্য বুড়িগঙ্গায় পড়ছে সেসব প্রতিষ্ঠান আগামী এক মাসের মধ্যে বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরকে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আদালত আগামী ৮ জানুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ  ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার ওই আদেশ দেন।

গত ১৮ জুন ঢাকা ওয়াসার দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বুড়িগঙ্গায় ওয়াসার কোনো স্যুয়ারেজ লাইন নেই। কিন্তু এরপর পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন এলাকায় ৬৮টি স্থান দিয়ে দূষিত বর্জ্য বুড়িগঙ্গায় ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫০টি ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইন। দুই প্রতিবেদন দেখার পর ১৭ নভেম্বর ঢাকা ওয়াসার এমডিকে শোকজ করেন হাইকোর্ট। শোকজ নোটিশে আদালতের আদেশ অমান্য করা এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় ঢাকা ওয়াসার এমডির একটি জবাব ২ ডিসেম্বর দাখিল করা হয় হাইকোর্টে। এতে বলা হয়, বুড়িগঙ্গায় ৬৭টি স্থান দিয়ে বর্জ্য পড়ছে। তার মধ্যে ওয়াসার লাইন ১৬টি। ঢাকা ওয়াসার এই দুই ধরনের প্রতিবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। এ অবস্থায় ওয়াসা ওই দিন তাদের আগের প্রতিবেদন প্রত্যাহার করে নেয় এবং গতকাল নতুন করে জবাব দাখিল করে। এই জবাবে ১৮ জুনের প্রতিবেদনের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া হয়।

গতকাল শুনানিকালে ওয়াসার আইনজীবী বলেন, ঢাকা ওয়াসাও চায় বুড়িগঙ্গার পানি পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত রাখতে।

ওই সময় আদালত বলেন, বুড়িগঙ্গার পানি পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত রাখতে ওয়াসার যদি ইচ্ছাই থাকত তাহলে এভাবে স্যুয়ারেজ লাইন রাখা হতো না। আর বুড়িগঙ্গার পরিবর্তে পদ্মা ও মেঘনার পানি এনে ঢাকায় সরবরাহ করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করতে হতো না। আসলে যত প্রকল্প, ততই টাকা উড়ে যাওয়ার সুযোগ—এ কারণে হয়তো এমনটি করা হয়।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিট মামলায় হাইকোর্ট ২০১১ সালে এক রায়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর থেকে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা