kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সেবা ও নিরাপত্তা সপ্তাহে যাত্রীসেবার নমুনা

সব ট্রেনই ‘লেট এক্সপ্রেস’

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সব ট্রেনই ‘লেট এক্সপ্রেস’

লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তনগর ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির জয়দেবপুর জংশন স্টেশনে পৌঁছার কথা ছিল বুধবার রাত ৮টায়। চার ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেনটি জয়দেবপুর পৌঁছায় রাত ১২টা ৫ মিনিটে। অন্যদিকে ঢাকা-রাজশাহী পথে চলাচলকারী আন্তনগর সিল্ক সিটি ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে এসে জয়দেবপুর জংশনে পৌঁছার কথা ছিল বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে। কিন্তু বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটেও ট্রেনটি পৌঁছায়নি। ঢাকা থেকে ছেড়ে বিকেল সোয়া ৩টায় আসার কথা ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ এক্সপ্রেসের। এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট দেরিতে ট্রেনটি জয়দেবপুর পৌঁছায় ৪টা ২০ মিনিটে। রেলওয়ের সেবা ও নিরাপত্তা সেবা সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সবচেয়ে বড় রেলজংশন জয়দেবপুরে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে ।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, জয়দেবপুর জংশন দিয়ে প্রতিদিন আন্তনগর, মেইল ও লোকাল মিলিয়ে ৭০টি ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে ঢাকা-কলকাতা পথের মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনও রয়েছে। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে মৈত্রী ও হাওড় এক্সপ্রেস বন্ধ ছিল। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যমুখী ২২টি ট্রেন জয়দেবপুর স্টেশনে এসে থামে। আবার ওই সময় পর্যন্ত ঢাকার উদ্দেশে দেশের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ছেড়ে আসা ১৭টি ট্রেন জয়দেবপুর পৌঁছে। তবে একটি ট্রেনও নির্ধারিত সময়ে জয়দেবপুর স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। ছেড়েও যেতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না আসায় যাত্রীরাও পড়ে ভোগান্তিতে। যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। অধিকাংশ ট্রেন স্টেশনে এসেছে দেড়-দুই ঘণ্টা বিলম্বে।

নীলফামারীর যাত্রী কলেজশিক্ষক জাহানারা ইসলাম বলেন, চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস আন্তনগর ট্রেনটি সকাল ৯টা ৫ মিনিটে জয়দেবপুর আসার কথা। অথচ ট্রেনটি এসেছে ৫ মিনিট কম ৩ ঘণ্টা বিলম্বে দুপুর ১২টায়। জয়দেবপুর ‘এ’ গ্রেডের জংশন স্টেশন। এখানে এত এত ট্রেন থামে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ভ্রমণ করে। অথচ স্টেশনে ট্রেনের তথ্য সম্পর্কিত ডিসপ্লেবোর্ড নেই। কখন ট্রেন আসবে, এখন কোথায় আছে—এসব তথ্য জানতে যাত্রীরা বারবার কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টারকে প্রশ্ন করে জর্জরিত করে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেই।

আরেক যাত্রী ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিরা সুলতানা বলেন, ‘ট্রেন বিলম্বে আসা এখানে নিয়মিত ব্যাপার। এখানে বসার পর্যাপ্ত স্থান নেই। সুপেয় পানি ও টয়লেট নেই। রেল কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়েও নজর দিতে হবে।’

নিয়মিত যাত্রী বন বিভাগের কর্মচারী আবদুল হাই বলেন, ‘এখন সেবা সপ্তাহ চলছে। এ উপলক্ষে স্টেশন পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। রেল কর্মচারীরা  হাসিমুখে সেবা দিচ্ছে। কিন্তু ট্রেন বিলম্বে আসার কারণে সব সেবা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এ স্টেশন থেকে প্রতিদিন ৯-১০ হাজার যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণ করে। কিন্তু আসন আছে মাত্র সাড়ে ৫০০। অধিকাংশ যাত্রী ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করে। এ জন্য আসন ও বগি বাড়ানো সময়ের দাবি। দেশের সব সেক্টরে ডিজিটাল সেবা চালু হয়েছে। বড় বড় স্টেশনে ট্রেনের অবস্থান ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে জানানো হয়। আমাদের দাবি, জয়দেবপুর জংশনে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা হোক।’

স্টেশন মাস্টার তারেক আহাম্মেদ বলেন, ‘এক বছরে ছয়টি নতুন আন্তনগর ও একটি ড্যামু ট্রেন চালু করা হয়েছে। চালক সংকটের পাশাপাশি সিঙ্গেল রেল লাইন এবং ঘনঘন ক্রসিংয়ের কারণে ট্রেন বিলম্ব হচ্ছে। জয়দেবপুর-ঢাকা পথে ডাবল লাইনের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে।’

সিনিয়র স্টেশন মাস্টার মো. শাহজাহান জানান, জয়দেবপুর জংশন থেকে মাসে দেড় থেকে পৌনে দুই কোটি টাকা আয় হয়। স্টেশনটি আগে তৃতীয় গ্রেডের ছিল। পাঁচ বছর আগে প্রথম গ্রেডে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু জনবল সেই আগের তৃতীয় গ্রেডেই রয়ে গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা