kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

হল খোলার দিনেই ভিসি অপসারণ দাবির বিক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হল খোলার দিনেই ভিসি অপসারণ দাবির বিক্ষোভ

এক মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার খুলে দেওয়া হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো। আর ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে আগামী রবিবার থেকে। এরই মধ্যে হলে ফিরতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সেশনজটের আশঙ্কা থেকে প্রশাসনের কাছে শীতকালীন ছুটি বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা। তবে প্রশাসন ছুটি বাতিল করবে না বলে জানা গেছে। এদিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আবাসিক হল খুলে দেওয়ার প্রথম দিনই গতকাল ক্যাম্পাসে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ব্যানারে কলা ও মানবিকী অনুষদসংলগ্ন মুরাদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন স্থাপনা প্রদক্ষিণ করে বটতলা এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে গত ৫ নভেম্বর আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা এবং ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিও জানানো হয়। এ ছাড়া আগামী ১০ ডিসেম্বর উপাচার্যের দুর্নীতির খতিয়ান (তথ্য) প্রকাশ করা হবে বলে ঘোষণা দেন আন্দোলনের সমন্বয়ক দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন। সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুশফিক উস সালেহীন ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।

এদিকে আবাসিক হল খুলে দেওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। গতকাল সকাল থেকে আবাসিক হলগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানির লাইন পরীক্ষা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ তদারকি করতে দেখা যায়।

হল ও ক্যাম্পাস খুলে দিলেও বিভিন্ন ছুটির কারণে চলতি ডিসেম্বর মাসে মাত্র দশ দিন ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন করে সেশনজটের শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শীতকালীন ছুটি কমিয়ে আনুক কিংবা ছুটি বাতিল করুক। এতে করে এই ক্ষতি যদি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যায়।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছুটি বাতিল করবে না বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে হল প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, আট থেকে দশ দিনের শীতকালীন ছুটি পেয়ে থাকে অফিস। আর এ সময়টাতে অনেক শিক্ষক আগে থেকে পরিকল্পনা করে নেন দেশে এবং দেশের বাইরে যাওয়ার।’ তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষক ছুটির আবেদন করে ওই সময়টায় ছুটি নিয়ে নিয়েছেন সেগুলো তো আর বাতিল করা সম্ভব না। সেই হিসেবে শীতকালীন ছুটি বাতিল করা যাচ্ছে না।’

উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিন সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা