kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

অক্সফামের প্রতিবেদন

জলবায়ু পরিবর্তনে বাস্তুচ্যুত দুই কোটি মানুষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ‘বিশৃঙ্খলা’য় দরিদ্র দেশগুলোর লাখ লাখ মানুষকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। গত এক দশকে মারাত্মক আবহাওয়া ও ক্রমবর্ধমান ভয়াবহ দাবানলের কারণে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে কমপক্ষে দুই কোটি মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যেসব হুমকি সামনে এগিয়ে আসছে, তাতে যদি বিশ্বনেতারা দ্রুত ব্যবস্থা না নেন তাহলে এই পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে। গতকাল সোমবার দারিদ্র্যবিরোধী দাতব্য সংস্থা অক্সফাম তাদের এক গবেষণায় এ কথা বলেছে।

অক্সফামের গবেষকরা বলেছেন, বেশির ভাগ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও দাবানলের কারণে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামনে বিপদ দেখতে পেয়ে কিছু মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে।

অক্সফামের জলবায়ুবিষয়ক পলিসির নেতা টিম গোরে বলেন, কিউবা, ডমিনিকা, টুভালুর মতো দ্বীপরাষ্ট্রগুলো গড়ে প্রতিবছর তাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশকে বাস্তুচ্যুত হিসেবে দেখতে পেয়েছে। অর্থাৎ তাদের বাড়ির বাইরে থাকতে হয়েছে।

টিম গোরে বলেন, ‘বিশ্ব উষ্ণ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমরা সতর্কতা দিয়ে আসছি। আর এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি এর ফল আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে।’

মাদ্রিদে দুই সপ্তাহের জন্য জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক নেগোসিয়েশন শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই অক্সফাম তার গবেষণায় যাচাই করে দেখেছে, ২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগে কী পরিমাণ মানুষ তাদের দেশে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই হিসাব করা হয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন এজেন্সির উপাত্ত ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুদ্ধে যে পরিমাণ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় তার চেয়ে তিন গুণেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও দাবানলে। যুদ্ধবিধ্বস্ত সোমালিয়ার মতো কিছু দেশ তো ক্ষতবিক্ষত হয় খরা ও বন্যা দুটিতেই। কখনো কখনো একই বছরে এই দুটি দুর্যোগ সেখানে হানা দেয়।

টিম গোরে বলেন, এসব বিপর্যয় বহু দরিদ্র দেশকে এমন এক অবস্থানে ফেলে যায় যে তারা ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আরেকটি বিপর্যয় তাদের আঘাত করে। এর ফলে তাদের অনেকে বন্যা ও খরার কারণে সাহায্যের আবেদন জানাতে থাকে। এটা এক ব্যতিক্রমী ব্যাপার। এটাই হলো জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশৃঙ্খলা, যা প্রকৃতপক্ষে দেখা যাচ্ছে।

অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়—এমন শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে সাতটিই হলো উন্নয়নশীল দ্বীপরাষ্ট্র। এর বেশির ভাগই প্যাসিফিক ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের। তবে আবহাওয়াবিষয়ক বিপর্যয়ে গত এক দশকে যেসব মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছে তার মধ্যে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই এশিয়ার। এর মধ্যে ফিলিপাইন থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত মানুষ বসবাস করছে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার হুমকির মধ্যে। শুধু ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে বাংলাদেশ ও ভারতে ৩৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগকে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হয়। সূত্র : রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা