kalerkantho

শনিবার । ১৮ জানুয়ারি ২০২০। ৪ মাঘ ১৪২৬। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকায় ইতিহাসবিষয়ক দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

একাত্তরের গণহত্যার বিচার হলে মিয়ানমার সাহস পেত না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একাত্তরের গণহত্যার বিচার হলে মিয়ানমার সাহস পেত না

বাংলা একাডেমিতে গতকাল শুরু হওয়া ‘১৯৭১ : গণহত্যা বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী’ উপলক্ষে দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি জাতির ওপর সংগঠিত পাকিস্তানি বাহিনীর নৃংশস গণহত্যার বিচার হলে মিয়ানমার সরকার কখনো রোহিঙ্গা গণহত্যা ঘটানোর সাহস পেত না। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে এমন অভিমত এসেছে ইতিহাসবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে রোহিঙ্গা সমস্যার আন্তর্জাতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা যদি আন্তর্জাতিকভাবে সমাধান না হয়, তাহলে এ অঞ্চলে শিগগিরই বিভিন্ন অন্তর্ঘাতমূলক জঙ্গি, মৌলবাদী কর্মকাণ্ড শুরু হবে। যা থেকে ভারত, বাংলাদেশসহ পাশের কোনো দেশ বাদ পড়বে না।

‘১৯৭১ : গণহত্যা বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী’ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার ইতিহাসবিষয়ক দুই দিনের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় এ সম্মেলন আয়োজন করেছে ‘১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্ট’। সকালে বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে সম্মেলন উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এতে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের ১২ জন এবং তুরস্ক, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের একজন করে গবেষক অংশ নিচ্ছেন।

উদ্বোধনী দিনে ছয়টি অধিবেশনে ২৮ জন গবেষক তাঁদের প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। উদ্বোধনী অধিবেশনসহ বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে উঠে এসেছে রোহিঙ্গা গণহত্যা প্রসঙ্গ। আজ একই মিলনায়তনে সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

ট্রাস্টের সভাপতি মুনতাসীর মামুনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ভারতের সাংবাদিক-লেখক হিরণ্ময় কার্লেকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীক। স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শিল্পী হাশেম খান।

কে এম খালিদ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় একটিমাত্র উপজেলার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৭টি বধ্যভূমি রয়েছে। যাঁদের জন্য এই দেশ তাঁদের যদি স্মরণ না করতে পারি, তাহলে সব বৃথা হয়ে যাবে।’

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘আমরা যদি পাকিস্তানি ঘাতক-খুনিদের বিচার করতে আন্তর্জাতিক আদালতে যাই তবে আমার বিশ্বাস, আমরা পাকিস্তানিদেরও বিচার করতে পারব।’ তিনি আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার ইতিহাস জাতিকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা আবার তুলে ধরছি, যাতে নতুন প্রজন্ম মনে রাখে—এ রাষ্ট্র গড়ে ওঠার পেছনে কত অশ্রু, কত বেদনা জড়িয়ে আছে।’

মূল প্রবন্ধে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন দেশের মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ মুসলিম বিশ্ব সেই ধরনের প্রতিবাদ করেনি।’

একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের হিরণ্ময় কার্লেকার, মিয়ানমারের খিন জ উইন, ভারতের ড. জয়তি শ্রীবাস্তব, তুরস্কের ফেরহাত আতিক ও বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী খিন জ উইন বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবেলা করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এ সমস্যা বেশিদিন জিইয়ে রাখা ঠিক হবে না।

অন্য অধিবেশনগুলোতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের অধ্যাপক সঞ্জয় কে, ভরদ্বাজ, জহর সরকার, ড. সাহারা আহমেদ, ড. সুস্নাত দাশ, মানস ঘোষ, ড. উর্ভি মুখোপধ্যায়, ড. কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ড. শুভরঞ্জন দাশগুপ্ত, ড. বিনয় কুমার মিশ্র ও শ্রীমন্তি সরকার প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা