kalerkantho

শনিবার । ১৮ জানুয়ারি ২০২০। ৪ মাঘ ১৪২৬। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিচারকের বাড়িতে ডাকাতি

বিচার শুরু হয়নি তিন বছরেও

আশরাফ-উল-আলম   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিচারকের বাড়িতে ডাকাতির মামলা ঝুলে আছে তিন বছরের বেশি সময় ধরে। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল হয় ২০১৭ সালের এপ্রিলে। এরপর আড়াই বছর পার হলেও আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

ডাকাতি ও মারধরের ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় দায়ের করা মামলাটি কুমিল্লার প্রথম যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, এই দীর্ঘদিনেও আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। মামলা দায়েরকারী কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার উত্তর রামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন আহাম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনাটি ২০১৬ সালের। ঘটনার দিন ডাকাতরা সবাইকে বেঁধে রেখে মারধর করে সোনা-গয়না, টাকা-পয়সা নিয়ে যায়। একজন এ সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে। পরে আরো দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মামলায় অনেক দিন আগেই চার্জশিট হয়েছে। কিন্তু আদালত থেকে এখনো সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য কাউকে ডাকা হয়নি। এজাহারকারী বলেন, ‘আমরা কোনো সমন পাইনি আদালত থেকে।’ তিনি আরো বলেন, আরো দুজন ডাকাত ছিল। কিন্তু তাদের ধরতেই পারেনি পুলিশ।

জানা যায়, মামলা দায়েরকারী মো. সালাউদ্দিন আহাম্মেদের মেয়ে একজন বিচারক। ডাকাতির ঘটনার সময় ডাকাতরা ওই বিচারক মেহের নিগার সূচনাকে বেঁধে মারধর করে। বিচারকের গলার হার, হাতের চুড়ি, টাকা-পয়সা নিয়ে যায় ডাকাতরা। ঘটনার সময় ওই বিচারক ঢাকা মহানগর হাকিম (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে নরসিংদীতে কর্মরত আছেন তিনি। ঘটনার দিন তিনি ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন। মামলার এজাহারেও বিষয়টির উল্লেখ আছে। অথচ এই মামলার বিচার শুরু হতে তিন বছর পার হয়ে গেছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য তারিখের পর তারিখ ধার্য হচ্ছে। অথচ অভিযোগ গঠন করা হচ্ছে না।  কুমিল্লার আইনজীবীরা বলেন, বিচারকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় যদি তিন বছরেও বিচার শুরু না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশা করবে কিভাবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এজাহারে যদি উল্লেখ থাকে যে একজন বিচারকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় এই মামলা, তাহলে তো বিশেষ নজর রাষ্ট্রপক্ষের থাকা উচিত। আদালতেরও বিষয়টি দেখা উচিত। তিনি বলেন, হয়তো বিষয়টি খেয়াল করেননি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আসলে কেউ-ই কোনো মামলা ভালোভাবে দেখেন না। এটি দুঃখজনক। তবে বিচারকের বলে নয়, যেকোনো মামলার দ্রুত বিচারই তো চায় সবাই। একটি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের জন্য এত দীর্ঘ সময় কেন?

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ জুলাই রাত অনুমান ২টা ৩০ মিনিটের দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার উত্তর রামপুরের মো. সালাউদ্দিন আহাম্মদের বাড়িতে ডাকাত ঢোকে। দুজন মুখোশ পরা ও দুজন মুখোশ ছাড়া ডাকাতের হাতে চাপাতি, ছুরি, রড ছিল। তারা সালাউদ্দিনের জামাতা আনিছুর রহমানকে কোনো প্রকার আওয়াজ করতে নিষেধ করেই তাঁর হাতে কোপ মারে। জামাতা আহত হন। এরপর ঘরের সবাইকে পিঠমোড়া দিয়ে বেঁধে এবং সালাউদ্দিনের নাতিকে কোপানোর ভয় দেখিয়ে ডাকাতরা আলমারির চাবি নেয়। তারা সোনা-গয়না, টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোনসেটসহ নগদ প্রায় ছয় লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এরই মধ্যে ঢাকার তৎকালীন মহানগর হাকিম মেহের নিগার সূচনা, তাঁর স্বামী আনিছুর রহমানকে মারধর করে। ডাকাতরা মালামাল নিয়ে বাইরে গেলে ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। রাস্তায়ও কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করে একটি পিকআপে উঠে ডাকাতরা চলে যায়। তবে এ সময় একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয় লোকজন।

ধৃত ডাকাত তার নাম আবুল কাশেম বলে জানায়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, তার সঙ্গে শামীম, লাল মিয়া, সাইফুল ও পিকআপের চালক সিরাজুল ছিলেন।

পরদিন মো. সালাউদ্দিন আহাম্মেদ কুমিল্লা সদর (দক্ষিণ) থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাশেমসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা