kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

পেঁয়াজের দর এখনো নাগালের বাইরে

এম সায়েম টিপু   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কার্গো বিমানে দ্রুত আমদানির পাশাপাশি দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করায় সারা দেশের বাজারে পেঁয়াজের ঝাঁজ কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এর পরও অত্যাবশ্যকীয় এই ভোগ্য পণ্যের দাম ক্রেতাসাধারণের নাগালের বাইরে।

এদিকে উল্টো পথে ছুটছে সবজি। শীতকালীন সবজির বাজার আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। সবজির দামে এই অস্থিরতায় বাড়তি হাওয়া দিচ্ছে পরিবহন ধর্মঘট। এ ছাড়া চাল, আদা, রসুন, শুকনা মরিচের বাজারেও সক্রিয় সুযোগসন্ধানী অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এর আগে গত মঙ্গলবার গুজবে ভর করে রাজধানীসহ দেশজুড়ে লবণ নিয়ে সৃষ্টি হয় অবিশ্বাস্য রকমের অস্থিরতা। লবণের দাম বাড়ছে—গুজবে কান দিয়ে লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে দোকানে। একেক ক্রেতা যেন সারা বছরের চাহিদা মাথায় রেখে পাঁচ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত লবণ কেনার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। তবে গতকাল বুধবার লবণের বাজারে ছিল একেবারেই বিপরীত। লবণ নিয়ে ব্যবসায়ীরাও নীরব। প্যাকেটের গায়ে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা উল্লেখ থাকা লবণ বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩২ টাকায়।

দুই মাস ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে পেঁয়াজের কেজি ২৫০ থেকে প্রায় ৩০০ টাকা পেরোনোর পর তাতে লাগাম পড়েছে। কমতে শুরু করেছে দাম। গত তিন-চার দিনে অনেকটা কমে এলেও পেঁয়াজের দাম ভোক্তা পর্যায়ে এখনো সহনীয় পর্যায়ে নামেনি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গতকাল প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। পাইকারি বাজারে তা ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। সে হিসাবে কেজিতে দাম কমেছে প্রায় ১০০ টাকা।

খুচরা বাজারে গতকাল আদা বিক্রি হয় ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে তা ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। রসুনের দামও কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। খুচরা বাজারে গতকাল রসুন বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি।

রাজধানীর শ্যামবাজারে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচসহ বিভিন্ন কৃষিজ পণ্যের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ ১৫০, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১৩০ ও চায়না পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারতের আদা বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। রসুনের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ১৩৮ থেকে ১৪০ টাকায়।

খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়ে পাঁচ লিটারের ক্যান ৪৮০ থেকে ৪৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা তেল প্রতি লিটার ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। পাইকারি বাজারে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ থেকে ৪৭০ টাকায়। আর খোলা তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা।

বাজারে পেঁয়াজের সংকট নেই উল্লেখ করে শ্যামবাজারের অভিসার বাণিজ্য ভাণ্ডারের কর্মী টিটু বলেন, নতুন পেঁয়াজ উঠলে কেজিপ্রতি দাম ১০০ টাকার নিচে নেমে আসবে। দক্ষিণ বাড্ডার সাঁতারকুলের মুদি দোকানদার জুয়েল জানান, খোলা রসুনের দাম গত এক সপ্তাহে পাইকারি পর্যায়ে বেড়েছে কেজিতে ৩৫ টাকা। গতকাল তিনি এই রসুন ১২০ টাকায় কিনে খুচরা বিক্রি করেন ১৩০ টাকা কেজি।

খুরচা বাজারে শুকনা মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গতকাল রাজধানীর নিউ মার্কেটে প্রতি কেজি শুকনা মরিচ বিক্রি হয় ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায়। একাধিক দোকানি জানান, গত সপ্তাহে শুকনা মরিচের কেজি ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা।

রাজধানীর চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মিনিকেট চাল গতকাল বিক্রি হয় ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। এ ছাড়া ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা কেজির আটাশ চালের দাম কেজিতে চার টাকা বেড়ে গেছে।

এদিকে বাজারে প্রচুর শীতের সবজি থাকলেও দাম অনেক বেশি। রাজধানীর নিউ মার্কেটে আসা কলাবাগানের বাসিন্দা মিনারা খন্দকার বলেন, ‘বাজারে শীতের সবজিতে যেন হাত দেওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দিন আগেও যে লাউ ৪০ টাকায় কিনেছি তা আজ ৭০ টাকা। ৬০ টাকার করলা কিনতে হচ্ছে ৮০ টাকায়।’ পলাশী বাজারে কাঁচাবাজার করতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের শিক্ষার্থী রওশন আরা শ্যামলীও একই ধরনের মন্তব্য করেন।

শান্তিনগরের সবজি ব্যবসায়ী হাসান বলেন, ‘ট্রাক ধর্মঘটে ঢাকার বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। কাঁচা পণ্য হওয়ায় দিনের সবজি দিনেই উঠানো হয়। এ অবস্থায় ধর্মঘটের বড় প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা