kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বসল ১৬তম স্প্যান

দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ২৪০০ মিটার

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ২৪০০ মিটার

পদ্মা সেতুর ১৬তম স্প্যান গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সফলভাবে বসানো হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া প্রান্তে ১৬ ও ১৭ নম্বর পিলারের ওপর ‘৩-ডি’ নামের স্প্যানটি বসানো হয়। এটি বসানোর মাধ্যমে মূল সেতুর দুই হাজার ৪০০ মিটার বা ২.৪ কিলোমিটার দৃশ্যমান হলো। ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে আর ২৬টি স্প্যান বসলেই। ১৫তম স্প্যান বসানোর ২৮ দিনের মাথায় ১৫ ও ১৬ নম্বর পিলারের ‘৩-সি’ স্প্যানের সঙ্গে বসেছে নতুন এই স্প্যানটি।

এর আগে গতকাল সকালে মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের আর তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের ‘৩-ডি’ স্প্যানটি নিয়ে রওনা করে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ভাসমান ক্রেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্ধারিত পিলারের সামনে এসে স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়।

পদ্মা সেতুর একজন দায়িত্বশীল প্রকৌশলী জানান, আবহাওয়া আর ভাসমান ক্রেনটির অ্যাংকরিংসহ সব কিছু অনুকূলে থাকায় কোনো জটিলতা ছাড়াই তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সফলভাবে স্প্যানটি বসানো হয়। 

ওই প্রকৌশলী আরো বলেন, ৪২টি পিলারের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ৩৩টি পিলারের। এ মাসেই আরো দুটি স্প্যান বসানোসহ এ বছরই আরো চারটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেতুর ২২ ও ২৩ নম্বর পিলারের স্প্যান ‘৪-ডি’ নদীর তীরে প্ল্যাটফর্মে রাখা আছে। ২১ ও ২২ নম্বর পিলারের স্প্যান ‘৪-সি’ পিলারের ওপর বসানোর জন্য প্রস্তুত আছে। এ ছাড়া মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ৬-এ, ৬-বি, ৬-সি পেইন্টিং শেষে পিলারের ওপর নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে মাওয়ায় ৩১টি স্প্যান আসে, এর মধ্যে ১৬টি স্প্যান বসানো হয়েছে।

এদিকে পুরো সেতুতে দুই হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। আর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে দুই হাজার ৯৫৯টি। পদ্মা সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এই সেতুর কাজ শেষ হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন সড়ক ও সেতু পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা