kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অবৈধ সম্পদ অর্জন

দুদকের শেষ তালিকায় দুই ডজন আমলা-প্রকৌশলী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তের আওতায় সর্বশেষ যে ১০৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে তাঁদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশেনের কাউন্সিলর, ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের সদ্য বহিষ্কৃত ও সাবেক নেতারা ছাড়াও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এ মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সংখ্যা শীর্ষ ১৫ জন প্রকৌশলীসহ ১৭ জন। ঢাকা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) কর্মকর্তাও রয়েছেন ছয়জন।  এসব ব্যক্তির ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুদককে সরবরাহ করতে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) অনুরোধ জানানো হয়েছে। গত রবিবার দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষর করা এসংক্রান্ত একটি চিঠি বিএফআইউর প্রধান বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

চিঠিতে এঁদের নাম, ঠিকানা ও পদবি উল্লেখ করে তাঁদের সব তথ্য চাওয়া হয়েছে। তালিকায় আছেন বর্তমান তিন সংসদ সদস্য, সাবেক এক সংসদ সদস্য, যুবলীগের দুই ডজন নেতা, কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অন্তত ১০০ জনের হিসাব চেয়ে বিএফআইউতে চিঠি পাঠায় দুদক। ওই তালিকার বেশ কয়েকজনের নামও এই তালিকায় আছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ‘শুদ্ধি’ অভিযান শুরুর পর দুদক প্রথমে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর কথা জানালেও এই তালিকা দিন দিন বড় হচ্ছে। দুদক এ পর্যন্ত ৩৪ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ১৪টি মামলায় আসামিদের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

যাঁদের বাংক হিসেব তলব করা হয়েছে তাঁদের পরিচয়সহ পূর্নাঙ্গ তালিকা হচ্ছে-

সংসদ সদস্য:  জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম- ১২ আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী, ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী, বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নজরম্নল ইসলাম বাবু ও তার স্ত্রী সায়মা আফরোজ এবং সাতক্ষীরার সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমান।

যুবলীগ: বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদার জি কে শামীম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সদ্য বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, মাকসুদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদ, সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমান, সরোয়ার হোসেন মনা, মুরসালিক আহমেদ, মুরসালিকের স্ত্রী কাওছারী আজাদ, বাবা আব্দুল লতিফ, মা আছিয়া বেগম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন স্বপন, নির্বাহী সদস্য জাকির হোসেনের নাম রয়েছে ১০৫ জনের তালিকায়।  বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা কাজী আনিসুর রহমান, নেতা কামরান প্রিন্সি মোহাব্বত ছাড়াও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান হোসেন খান, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক তসলিম উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক কায়সার আহমেদ, সদস্য হেলাল আকবর চৌধুরী ওরফে বাবর, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী এবং যুবলীগ নেতা আতিয়ার রহমান দীপু ও  গাজী সারোয়ার বাবু ।

কাউন্সিলর: ঢাকা উত্তর সিটি কমর্পারেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব হাবিবুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারিকুজ্জামান রাজীব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড  কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ওরফে ম্যাজিক রতন এবং ৩৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঈনুল হক মঞ্জু।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার সিনিয়র সহকারী প্রধান মুমিতুর রহমান ও সাজ্জাদ।  গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সী, আবদুল হাই, উৎপল কুমার দে, নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল হক মধু, শওকত উল্লাহ, আব্দুল কাদেও, আফসার উদ্দিন, ইলিয়াস আহমেদ, স্বপন চাকমা, শের-ই- বাংলা নগর-১ ও গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল হক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রোকনউদ্দিন ও আব্দুল মোমিন চৌধুরীর ও গণপূর্ত সার্কেল-৪ এর উপসহকারী প্রকৌশলী আলী আকবর সরকার।

আইসিডি: ঢাকা ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি)’র কমলাপুরের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন, অতি: কমিশনার মোহা. মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার কানিজ ফারহানা শিমু, আবুল কাশেম, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তুহিনুল হক।

ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও সেচ্ছাসেবক লীগ: ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম সোহেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক কে এস মাসুদুর রহমান, তার স্ত্রী লুত্ফুন নাহার লুনা, তার বাবা আবুল খায়ের খান, মা রাজিয়া খান, গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুপন মিয়া, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাশেদুল হক ভূইয়া, ঢাকা ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাতেনুল হক ভুঁইয়া ও সহ-সভাপতি তাবিবুল হক তামিম। 

দুদক থেকে ব্যাংক হিসেবের  তথ্য চাওয়া ১০৫ জনের তালিকায় আরো রয়েছেন মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূইয়া, কলাবাগান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্তা ও কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ, সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার, শিক্ষা অধিদপ্তরের ঠিকাদার মো. শফিকুল ইসলাম, জি কে শামীমের সহযোগি ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ী জিয়া, নাঈম, টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক খোরশেদ আলম,  ওমানে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী নাদিম ও জার্মানীতে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান, মগবাজার টিএন্ডটি কলোনী জাকির, নয়া টোলা এলাকার সেন্ট, শোভন, বাড্ডার  নাসির, বনানী গোল্ড ক্লাব ব্যবসায়ী আবদুল আওয়াল, আবুল কাশেম ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কর্মচারী হারুনুর রশিদ ও আবুল কালাম। এছাড়াও প্রশান্ত কুমার হালদার, আফসার উদ্দিন মাস্টার, আয়েশা আক্তার, শামীমা সুলতানা, শেখ মাহামুদ জোনায়েদ, মো মঞ্জুর আলম, এস এম আজমল হোসেন, ব্রজ গোপাল সরকার, শাহেদুল হক, তার স্ত্রী সাবিনা তামান্না হক এবং শরিফুল আওয়ালের নামও রয়েছে তালিকায়। তবে এদের বিস্তারিত পচিয় দেওয়া হয়নি।

দুদকের তালিকায় অন্যানদের মধ্যে নোয়াখালির মেসার্স জামাল  এন্ড কোং-এর ঠিকাদার জামাল হোসেন, পদ্মা এসোসিয়েটস ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ঠিকাদার মিনারুল চাকলাদার, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্সের ঠিকাদার রেজোয়ান মোস্তাফিজ, বান্দরবানের সিলভার ওয়াই রিসোর্ট এন্ড স্পা সেন্টারের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মণ্টু, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল করিম চৌধুরী স্বপন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামিল উদ্দিন শুভ, পরিচালক এস এইচ এম মহসিন, উম্মে হাবিবা নাসিমা আক্তার, জিয়া উদ্দিন আবীর ও  জাওয়াদ উদ্দিন আবরারের নামও রয়েছে।

মন্তব্য