kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

শুরুতে শনাক্ত হলে ৬০ শতাংশ কিডনি রোগ নিরাময় সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিডনি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গতকাল শনিবার বক্তারা বলেন, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের যোগসূত্র অত্যন্ত নিবিড়। বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতিবছর ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয় এবং তাদের ৮০ শতাংশই মৃত্যুবরণ করে চিকিৎসার অভাবে। কিডনি বিকলের চিকিৎসা ডায়ালিসিস অথবা কিডনি সংযোজন অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ২০১৮ সালের সমীক্ষা বলছে, ৪০ হাজার কিডনি অকেজো রোগীর মধ্যে কেবল ১০ হাজার ডায়ালিসিস অথবা কিডনি সংযোজন করার সুযোগ পায়। বাকি ৩০ হাজার রোগী চিকিৎসার সুযোগের অভাবে মৃত্যুবরণ করে। এই রোগীদের বাঁচিয়ে রাখতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালিসিস করার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন এবং প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে কিডনি সংযোজনের ব্যবস্থা চালু হওয়া দরকার। পাশাপাশি বিশেষভাবে প্রয়োজন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ, ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন ও নার্সদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা।

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগিডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. এ এস এম মতিউর রহমান ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের (বাডাস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন লন্ডনের রয়েল হাসপাতালের অধ্যাপক মাগদী ইয়াকুব।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন কিডনি ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এম এ ওয়াহাব, মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম মুহিবুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনি ফেরদৌস রশিদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের দুই শতাধিক কিডনি ও ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশ নেন। এদিন অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদের লেখা ‘কিডনি রোগের চিকিৎসা ও প্রতিকার’ এবং তানজিনা রহমানের লেখা ডায়ালিসিস রোগীদের স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য পুষ্টি তথ্য সংক্রান্ত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

প্রধান অতিথি আব্দুল মালেক বলেন, ‘বাংলাদেশের অসংক্রামক রোগের ভয়াবহতা ব্যাপক। বিশেষ করে কিডনি, ডায়াবেটিস, হার্টের মতো অসংক্রামক রোগসমূহ থেকে মানুষকে রক্ষা করা দরকার। স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়া, পুষ্টিকর ও সুষম খাবার পরিমিত গ্রহণ, নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করলে সুস্থ থাকা যায়।’

অধ্যাপক আজাদ খান বলেন, ‘বহুমূত্র বা ডায়াবেটিসের সঙ্গে কিডনি রোগের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।’ ডায়াবেটিস রোগের বিস্তার রোধে তিনি সবাইকে প্রতিদিন ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটা ও ব্যায়াম করার পরামর্শ ছাড়াও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ফাস্ট ফুড পরিহার করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. মতিউর রহমান বলেন, ‘কিডনি রোগের ভয়াবহতা অনেক। তবে ডায়ালিসিস ও কিডনি সংযোজনের চিকিৎসাকে সীমিত পর্যায়ে না রেখে আরো সম্প্রসারিত করা দরকার।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা