kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

ঢাকা-সাতক্ষীরায় ৬ জঙ্গি গ্রেপ্তার

হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর উত্তরা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকা থেকে আনসার আল ইসলামের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল শনিবার সকালে র‌্যাবের আলাদা দুটি দলের অভিযানে তাঁরা গ্রেপ্তার হন বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৪-এর পরিচালক, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নীলফামারীর শফিকুল ইসলাম ওরফে সাগর ওরফে সালমান মুক্তাদির (২১), পিরোজপুরের ইলিয়াস হাওলাদার ওরফে খাত্তাব (৩২), সাতক্ষীরার ইকরামুল ইসলাম ওরফে আমীর হামজা ও আমীর হোসাইন (২৬), শিপন মীর ওরফে আব্দুর রব (৩৩) এবং চাঁদপুরের ওয়ালিউল্লাহ ওরফে আব্দুর রহমান (২৫)। তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদী মতবাদ সম্পর্কিত বই, ডিজিটাল কনটেন্ট ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

গতকাল সকালে কারওয়ান বাজার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র‌্যাব-৪-এর পরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেদের মধ্যে অনলাইনে যোগাযোগ করে ‘লোন উলফ অ্যাটাক’ (একাকী হামলা) বা নাশকতার পরিকল্পনা করে সংগঠিত ছিলেন। মূলত হামলার পরিকল্পনা করেই তাঁরা ঢাকা ও সাতক্ষীরায় মিলিত হয়েছিলেন। তবে চূড়ান্ত পরিকল্পনার আগেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা সবাই আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সক্রিয় সদস্য। 

গ্রেপ্তারকৃতরা দুই থেকে পাঁচ বছর ধরে এই জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত জানিয়ে তিনি বলেন, বড় কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া সাধারণত তাঁরা কখনো একসঙ্গে জড়ো হন না। নিজেদের মধ্যে পরিচিত না হয়েই তাঁরা ‘কাটআউট’ পদ্ধতিতে চলাচল করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। সম্প্রতি কোনো একটি ‘লোন উলফ’ হামলার পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর উত্তরা এলাকায় তাঁদের কয়েকজন একসঙ্গে মিলিত হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ওয়ালিউল্লাহ ওরফে আব্দুর রহমান একজন মাদরাসা শিক্ষক। তিনি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন। আর সাতক্ষীরার ইকরামুল ইসলাম ওরফে আমীর হামজা খুলনা অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁরা ইন্টারনেটে ‘প্রটেকটিভ অ্যাপস’ ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতেন, যেগুলো সাধারণত ‘ইন্টারফেস’ করা যায় না।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আমীর হোসাইন তাঁর সংগঠনে ‘তৌহিদী জনতার আর্তনাদ’ নামে পরিচিত। এই নামে তাঁর ফেসবুক পেজ আছে। এসব পাতার মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা এবং উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দিতেন। শফিকুল ইসলাম বর্তমানে ‘ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং’ পঞ্চম বর্ষের ছাত্র। তিনি সংগঠনের বিস্ফোরকসংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করতেন। ইলিয়াস হাওলাদার পেশায় একজন গাড়িচালক। তিনি একসময় জঙ্গি সংগঠন হুজির সদস্য ছিলেন। তিনি আনসার আল ইসলামে যোগ দেওয়ার পর সংগঠনের বই, লিফলেট ও সিডি সরবরাহের দায়িত্ব পালন করতেন।

আমীর হোসাইন সংগঠনের বিভিন্ন তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতেন। তিনি ছয়টি উগ্রবাদী ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন। ওয়ালিউল্লাহ সূত্রাপুরের একটি মাদরাসা থেকে দাওরা হাদিস পাস করে ২০১৮ সালে মাদরাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি আনসার আল ইসলামের দাওয়াতি শাখার দায়িত্বে ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা