kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিদ্ধিরগঞ্জে লক্ষাধিক ইউনিট বিদ্যুৎ চুরি

কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকে মিটার ছাড়া চার্জ দেওয়া হয়

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির (ডিপিডিসি) কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকে প্রতি মাসে লক্ষাধিক ইউনিট বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। এদিকে এই যানবাহনগুলো বেপরোয়াভাবে সড়কে চলাচল করার কারণে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ঘটছে দুর্ঘটনা।

গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, গ্যারেজ মালিকরা সুকৌশলে বিদ্যুতের মিটার ছাড়া চোরাইভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা চোরাই এ বিদ্যুৎ দিয়ে সারা রাত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ করিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি কোনো বৈধ অনুমতি না থাকায় স্থানীয় সরকারি দলের কিছু নেতা,

স্থানীয় গ্যারেজ মালিক আক্কাস আলী জানান, প্রতিদিন একটি ইজিবাইক চার্জ দিতে ১০ ইউনিট ও অটোরিকশা চার্জ দিতে ছয় ইউনিট বিদ্যুতের প্রয়োজন। গ্যারেজগুলো আবাসিক এলাকায় হওয়ায় স্থানীয় ডিপিডিসির কর্মকর্তারা লাখ লাখ টাকার বিদ্যুৎ গোপন চুক্তির মাধ্যমে গ্যারেজগুলোকে দিয়ে থাকেন। আর এ জন্য সরাসরি গ্যারেজের নামে বিদ্যুৎ সংযোগ না দিয়ে ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে সংযোগ দিয়ে থাকেন তাঁরা। তিনি আরো জানান, এ কাজের জন্য ডিপিডিসির এলাকাভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্যারেজ মালিকরা মাসোয়ারা দিয়ে থাকেন।

কবির মিয়া নামের অপর এক গ্যারেজ মালিক জানান, অটো ও ইজিবাইকের গ্যারেজে সহজে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় না ডিপিডিসি। এ জন্য গোপনে এক লাখ থেকে তিন লাখ টাকা চুক্তিতে ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে গ্যারেজগুলোতে ২০ কিলোওয়াট করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় ডিপিডিসি। ইজিবাইকচালক সুমন মিয়া জানান, প্রতিটি গাড়ি চার্জ দিতে ও রাখার জন্য গ্যারেজ মালিককে দৈনিক ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা দিতে হয়।

অটোরিকশা ও ইজিবাইক মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জে ১৭ হাজারের বেশি অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করছে। এসব গাড়ি চার্জ দিতে প্রতিদিন প্রয়োজন হচ্ছে এক লাখ ৩০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ। বাণিজ্যিক প্রতি ইউনিট ১২ টাকা হারে উল্লিখিত এ বিদ্যুতের মূল্য ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা প্রতি মাসে চার কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং বছরে এই টাকার পরিমাণ ৫৬ কোটি ১৬ লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। তাঁরা আরো জানান, বিশাল পরিমাণ এ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে লুটে নিচ্ছেন ডিপিডিসি কর্মকর্তা ও গ্যারেজ মালিকরা। ফলে বিদ্যুৎ বিভাগ মাত্র কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব পাচ্ছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বিদ্যুতের অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তার পরও অবৈধ লাইন বন্ধ করা সম্ভব না হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে প্রত্যেক গ্যারেজে সাড়ে সাত টাকা ইউনিট বিল করে টিডিটু মিটারের সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা