kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

স্বামীরূপী প্রতারকের খপ্পরে আইনজীবী

বন্দি রেখে নির্যাতন, বিবস্ত্র ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি!

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্দি রেখে নির্যাতন, বিবস্ত্র ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি!

‘টাকার জন্য প্রতিদিন আমাকে মারধর করত। সমস্ত শরীর থেঁতলে দিয়েছে পাথরের আঘাতে। আমার বিবস্ত্র ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিত। নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যার কথাও চিন্তা করেছি। পালিয়ে আসতে পারব, তা ভাবতেও পারিনি।’ মানিকগঞ্জ বারের এক নারী আইনজীবী এভাবেই স্বামীর হাতে নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন।

গত সোমবার রাতে মানিকগঞ্জ সদরের বাসিন্দা ওই আইনজীবী আশ্রয় নেন মানিকগঞ্জ সদর থানায়। এখানেই ক্যামেরার সামনে তিনি কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁর প্রথম স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন। ছেলে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। কিছুদিন আগে পরিচয় হয় মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার শাওনের সঙ্গে। শাওন নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিতেন। ঢাকায় অফিস এবং ফ্ল্যাট থাকার কথাও বলতেন। চলাফেরা করতেন প্রাইভেট কারে। কথাবার্তা, আচার-আচরণ দেখে ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়। শাওন একপর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর কাজির মাধ্যমে বিয়ে হয়। তবে শাওনের কথামতো বিয়ের কথা পরিবারের কাছে গোপন রাখেন তিনি।

ভুক্তভোগী আইনজীবী জানান, গত ১৭ অক্টোবর হঠাৎ শাওন জরুরি কথা আছে বলে মানিকগঞ্জ কোর্ট থেকে ডেকে নেন তাঁকে। এরপর প্রাইভেট কারে উঠিয়ে সাভারের নবীনগর কোহিনুর গেট এলাকার তুনু হাজির ছয়তলা বাড়ির চার তলার একটি কক্ষে নিয়ে যান তাঁকে। প্রতিবেশীদের কাছে তাঁকে স্ত্রী হিসেবেই পরিচয় দেন। এরপর প্রথম দুই দিন ভালো ব্যবহার করলেও তৃতীয় দিন থেকে নিজ মূর্তি ধারণ করেন শাওন। মারধরের ভয় দেখিয়ে মানিকগঞ্জ ডাকঘরে থাকা তাঁর কয়েকটি সঞ্চয় হিসাব থেকে তাঁকে টাকা উঠিয়ে দিতে বলেন। বাধ্য হয়ে তিন দফায় ১৪ লাখ টাকা শাওনের হাতে তুলে দেন তিনি। কিন্তু এরপর আরো টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন তিনি। আর কোনো টাকা না থাকার কথা বললে তাঁর জমি শাওনের নামে লিখে দিতে চাপ দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় নির্যাতন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও জাতীয় পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়।

সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর রাতেও তাঁকে নির্যাতন শুরু করেন শাওন। এ সময় তাঁর আর্তচিৎকারে পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন এসে তাঁকে রক্ষা করে। তারা তাঁকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। আত্মীয়-স্বজনের কাছে তাঁকে তুলে দেওয়া হবে বলে শাওনকে জানিয়ে দেয় প্রতিবেশীরা। একপর্যায়ে শাওন নিজেই স্ত্রীকে বাপের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে নিয়ে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন, কিন্তু কথামতো বাপের বাড়িতে না নিয়ে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে আসেন। নারী আইনজীবী জানান, সেখান থেকে পালাতে চাইলে তাঁকে মারধর করা হয়। এ পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে শাওন সেখান থেকে সটকে পড়েন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা