kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ভাসানচরে যেতে রাজি হচ্ছে রোহিঙ্গারা

এ পর্যন্ত ৫০ পরিবারের ইচ্ছা প্রকাশ

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিলম্বে হলেও রোহিঙ্গারা এখন স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে আগ্রহী হচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্যাম্পের বেশ কিছু রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মিয়ানমারের রাখাইন ও টেকনাফ-উখিয়ার ক্যাম্পের তুলনামূলক পরিবেশ বিবেচনায় অনেক রোহিঙ্গা মনে করে, ভাসানচর হবে অনেক নিরাপদ বাসযোগ্য স্থান। ইতিমধ্যে উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পে ৫০টিরও বেশি পরিবারের প্রায় আড়াই শ সদস্য ভাসানচরে স্বেচ্ছায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়ায় স্থান সংকুলানসহ নানা পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার এক বছর আগে নোয়াখালীর ভাসানচরে লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বাসযোগ্য অবকাঠামো নির্মাণ করে। কিন্তু এত দিন ধরে রোহিঙ্গারা সেখানে যেতে রাজি হচ্ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, দেশি-বিদেশি এনজিওকর্মীরা নিজেদের সুবিধার জন্য গোপনে রোহিঙ্গাদের ‘ভাসানচরবিরোধী’ উসকানি দিয়ে আসছিলেন। তবে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের অব্যাহত চেষ্টার ফলে এখন সেই বাধা দূর হতে চলেছে বলে রোহিঙ্গা প্রশাসনে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন।

ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি, পুরনো-নতুন ১৫ জন রোহিঙ্গা নেতা, জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএমসহ কিছু এনজিও কর্মকর্তা ভাসানচরে যাওয়ার বিষয়ে একটি বৈঠক করেন। সেখানে রোহিঙ্গা নেতাদের নিজ নিজ শিবির থেকে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে বলা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছে ফরম দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার  মাহাবুব আলম তালুকদার জানিয়েছেন, ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের তালিকা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এটা অত্যন্ত ভালো দিক,  যে তারা স্বেচ্ছায় সেখানে যাওয়ার সম্মতি জানাচ্ছে। নুর হোসেন (৫০) নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, ভাসানচরের ঘরবাড়িগুলোর ভিডিও দেখে তাঁর মনে হয়েছে সেখানে গিয়ে বসবাস করা রোহিঙ্গাদের জন্য ভালো হবে। তাই তালিকায় তিনি পরিবারের সবার নাম দিয়েছেন।

এদিকে কুতুপালং ক্যাম্পের আরো ৩৩টি পরিবার স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। কুতুপালং ক্যাম্প-২-এর রোহিঙ্গা শেড মাঝি শাহ আলম জানান, ক্যাম্পের একটি ব্লকের ২৫ পরিবার, আরে দুটি ব্লকের আট পরিবার মিলে ৩৩ পরিবারের সদস্যরা ভাসানচরে যেতে রাজি হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা