kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আইনজীবীকে হাতকড়া, এজলাসে লঙ্কাকাণ্ড

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইনজীবীকে হাতকড়া, এজলাসে লঙ্কাকাণ্ড

কিশোরগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ ‘বিনা অনুমতিতে’ মামলার নথি দেখাকে কেন্দ্র করে বিচারকের নির্দেশে এক আইনজীবীকে হাতকড়া পরানোর প্রতিবাদে গতকাল বুধবার দুপুরে আদালতে লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা তাত্ক্ষণিক মিছিল বের করে এজলাসে রাখা বেঞ্চ ও অন্য আসবাব তছনছ করেন। এমনকি বিচারকের খাসকামরার দরজায় লাথি মেরে ভেঙে ভেতরে

ঢোকার চেষ্টা চালান। এ সময় পুলিশ গিয়ে ওই বিচারককে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। পরে আইনজীবীরা জরুরি সভা ডেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. সোলায়মানের প্রত্যাহার দাবি করেন। একই সঙ্গে দাবি না মানা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ বিচারিক আদালতের সব কার্যক্রম বর্জনসহ ওই বিচারকের নামে মামলা করার ঘোষণা দেন।

দুপুরে জেলা ও দায়রা জন আদালত ভবনে গিয়ে দেখা যায়, থমথমে পরিবেশ। আদালতের কলাপসিবল গেটগুলো বন্ধ রেখে সেখানে পাহারা দিচ্ছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এ সময় কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আনোয়ার ও কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিকসহ পুলিশের কর্মকর্তারা দোতলায় অবস্থিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের-২ ক্ষতিগ্রস্ত এজলাস পরিদর্শন করেন। এ সময় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনা সম্পর্কে কথা বলতে রাজি হননি।

কিশোরগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল চৌধুরী জুয়েল বলেন, “দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে-২ বিচার চলছিল। এ সময় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মীর ইকবাল হোসেন বিপ্লব আদালতের পেশকার আনোয়ার কামালের কাছে একটি মামলার নথি নিয়ে এজলাসের দরজার কাছে গিয়ে পড়তে থাকেন। এ সময় মামলার নথি তলব করেন বিচারক মো. সোলায়মান। তখন সঙ্গে সঙ্গে নথি ফেরত দিয়ে স্যরি বলেন আইনজীবী। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারক ওই আইনজীবীকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে আটকের নির্দেশ দেন। পুলিশও আইনজীবীকে ধরে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদুল আলম শহীদসহ অন্য নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই আইনজীবীকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন। তখন ওইখানে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।” তিনি বলেন, ‘মামলার নথি দেখা আদালতের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বিচারক এমন আচরণ করেননি।’

এদিকে আদালতের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই আইনজীবী মামলার নথিপত্র নিয়ে একেবারে নিচে নেমে যান। তিনি আইনজীবীর পোশাক না পরায়, তাঁকে আইনজীবী হিসেবে চেনাও যাচ্ছিল না। ঠিক তখনই মামলার নথি তলব করেন বিচারক। নথি না পাওয়ায় কিছুটা অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে (আইনজীবী) নিয়ে আসার নির্দেশ দেন তিনি।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি মিয়া মো. ফেরদৌস বলেন, ‘এজলাস কক্ষের ভেতরে একটি ঠুনকো বিষয় নিয়ে তিনি (বিচারক) একজন আইনজীবীকে হাতকড়া পরিয়ে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখেন। এটা তিনি কোনোমতেই বিচারকসুলভ আচরণ করেননি। আমরা সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার। আর এ সমস্যা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো বিচার কার্যক্রমে অংশ নেব না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা