kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বিশ্ব অ্যানেসথেসিয়া দিবস আজ

অ্যানেসথেসিওলজিস্ট নেই, বন্ধ সাত শ সরকারি অপারেশন থিয়েটার!

তৌফিক মারুফ   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘৫০ বেডের হাসপাতাল ভবন। নতুন অপারেশন থিয়েটার। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় পোস্ট অপারেটিভ রুম, একটি অটোক্লেভ রুম, ডক্টরস রুম, অ্যানেসথেসিয়া রুম—সবই আছে। কিন্তু একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্টের অভাবে ওই অপারেশন থিয়েটারটি চালু করতে পারছি না, বন্ধ রাখতে হয়েছে।’ গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. শাহিন এভাবেই কালের কণ্ঠকে বলেন তাঁর আক্ষেপের কথা।

ভোলা জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে শুধু একটি উপজেলায় (চরফ্যাশনে) একটি অপারেশন থিয়েটার চালু আছে। বাকি ছয়টি উপজেলা হাসপাতালে অপারেশন বন্ধ রয়েছে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট না থাকার কারণে। এমনকি ভোলা সদর হাসপাতালে তিনটি অপারেশন থিয়েটারের জন্য আছেন মাত্র একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট। সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন ‘একটি বাদে অন্য উপজেলায় অপারেশন থিয়েটার থাকলেও চালু করতে পারছি না অ্যানেসথেসিওলজিস্ট নেই বলে।’

শুধু কি ঢাকার বাইরে এমন অবস্থা? খোদ ঢাকা মহানগরীর সরকারি একটি বিশেষায়িত হাসপাতালেও পর্যাপ্ত অ্যানেসথেসিওলজিস্ট না থাকায় অপারেশনের জট লেগে যায়। রোগীদের অপেক্ষায় থাকতে হয় দিনের পর দিন।

জাতীয় হৃদেরাগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমানের কথায়, ‘অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের প্রয়োজন তো শুধুমাত্র অপারেশনের ক্ষেত্রেই না, আইসিইউ, সিসিইউ, ক্যাথল্যাবেও তাঁদের লাগে। অথচ এত বড় হাসপাতালটিতে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট আছেন মাত্র ২৬ জন। স্বাভাবিক কাজ চালাতে আরো কমপক্ষে ১০ জন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট অপরিহার্য।’ জাতীয় অর্থোপেডিকস হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল গণি মোল্লাহ বলেন, ‘এখানে রোগীর যে চাপ তা সামাল দেওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে অ্যানেসথেসিওলজিস্টের অভাবে। অপারেশন থিয়েটার, সার্জন সব আছে—কিন্তু অ্যানেসথেসিওলজিস্ট পর্যাপ্ত না থাকলে অপারেশনের জট কাটানো যায় না।’ এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব অ্যানেসথেসিয়া দিবস।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান সার্জনসের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক আছেন, যাঁরা বিভিন্ন ধরনের সার্জারি করে থাকেন। কিন্তু সেই অনুপাতে দেশে অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।’

বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেসথেসিওলজিস্টের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কাওসার সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের সংকট প্রকট। এই সংখ্যা না বাড়ালে অপারেশন, আইসিইউ, সিসিইউসহ আরো কিছু সেবায় গতি আসবে না। মাঠ পর্যায়ের বহু হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার চালু রাখা যায় না অ্যানেসথেসিওলজিস্ট না থাকার ফলে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারা দেশে সব পর্যায়ে দেড় হাজারের বেশি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। এর মধ্যে সাত শর বেশি অপারেশন থিয়েটার তৈরির পর থেকেই রয়েছে পরিত্যক্ত অবস্থায়।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ৫০ বেডের প্রতিটি হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে একই নকশায়। অপারেশন থিয়েটারগুলোও একই রকম। সব মিলিয়ে প্রায় সাত হাজার স্কয়ার ফিটের সুবিশাল আয়তন। একেকটির খরচ দেড় কোটি টাকার ওপরে। প্রতিটির ভেতরেই রয়েছে তিনটি করে অপারেশন থিয়েটার—যার দুটি জেনারেল ও একটি গাইনির সি সেকশনের জন্য। এ ছাড়া একটি পোস্ট অপারেটিভ রুম, একটি অটোক্লেভ রুম, দুটি ডক্টরস রুম, একটি অ্যানেসথেসিয়া রুম, দুটি চেঞ্জ রুম, দুটি লেবার রুম, একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা রুম, একটি ওয়েটিং রুমসহ আরো একাধিক রুমে সাজানো পুরোটা। ভেতরে প্রয়োজনীয় সব ফিটিংসে ছাপ আধুনিকতার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা