kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

চীনের নেতৃত্বে উদ্যোগ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন আশা দেখছে বাংলাদেশ

বাহরাম খান   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের বর্তমান উদ্যোগে বড় ধরনের আশার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে দুই দফা প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ায় এ নতুন উদ্যোগে সতর্কভাবে এগোচ্ছে সরকার। উদ্যোগে আশাবাদী হয়ে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের চিন্তাতেও ভাটা দিয়েছে সরকার।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চীনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে একটি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন সরকারের পক্ষ থেকে সাড়া পেলে প্রত্যাবাসন নিয়ে সামনে এগোতে চায় চীন। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রত্যাবসান বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নিতে সরকারের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়। এরপর তারা মিয়ানমারের সঙ্গেও আলোচনা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনের পক্ষ থেকে সরকারকে চিঠি দিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু আগে থেকেই বাংলাদেশ-মিয়ানমার একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ থাকায় নতুন ওয়ার্কিং গ্রুপ কিভাবে হবে, হলেও সেটা কিভাবে কাজ করবে, কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে মূল্যায়ন করবে বাংলাদেশ। এর পরই চূড়ান্ত উদ্যোগে যেতে চায় সরকার।

সূত্র জানায়, চীনের উদ্যোগের বিষয়ে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বসে নিজেরা নতুন প্রস্তাবের খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা করে বাংলাদেশের অবস্থান ঠিক করবে বলে জানা গেছে। এরপর এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দিকনির্দেশনা চাওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পেলে সরকারের উল্লিখিত তিনটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চীনা দূতাবাস, মিয়ানমার, এনজিও ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি মিয়ানমার সফরে গিয়ে সেখানকার সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও প্রত্যাবাসন পরিবেশ দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

নতুন উদ্যোগের বিষয়টি স্বীকার করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘আমরা খুবই আশাবাদী, এবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।’ তিনি বলেন, ‘চীনের মধ্যস্থতায় যে উগ্যোগ তাতে মিয়ানমারের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাই মিয়ানমারে যাওয়ার ব্যবস্থা হলে তাদের ভাসানচরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জি মিং গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তাঁদের দৃঢ় পদক্ষেপের কথা জানান বলে জানা গেছে। ওই দিন চীনের রাষ্ট্রদূত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীকে জানান, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনে সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে চীন বাংলাদেশের পাশে আছে। এর পরদিনই জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে চীনের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে মিয়ানমার তাদের নিজেদের শনাক্তকৃত নাগরিকদের পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়ে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা