kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মেগা প্রকল্পের ‘চাপে’ প্রকৌশলীর পদত্যাগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেগা প্রকল্পের ‘চাপে’ প্রকৌশলীর পদত্যাগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্পের উন্নয়নকাজকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাধর শিক্ষক ও চরমপন্থীদের চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী। এ অবস্থায় চাপ প্রয়োগকারী শিক্ষকদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে উপাচার্যকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলীমুজ্জামান টুটুল এই পদত্যাগকে অসুস্থতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছেন। মিছিলে মেগা প্রকল্পের কাজে যে সব শিক্ষক দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন তাঁদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। মিছিল শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে সমাবেশ করে ছাত্রলীগ। সমাবেশ শেষে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। এ সময় উন্নয়নকাজে চাপ প্রয়োগকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজে কেউ হস্তক্ষেপ করলে ছাত্রলীগ তা প্রতিহত করবে বলেও জানান উপস্থিত নেতারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির মাহফুজ মাসুদ, বন ও পরিবেশবিষয়ক উপসম্পাদক জুবায়ের হোসেন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালন, সহসম্পাদক ফয়সাল সিদ্দিকি আরাফাত প্রমুখ।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩৭ কোটি টাকার উন্নয়ন মেগা প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় গত জুলাই মাসে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৩১টি দরপত্রের মধ্য ছয়টি দরপত্র আহ্বানের কাজ শেষ হয়েছে। একটি প্রকল্পের কাজ চলমান। কাজের শুরু থেকেই স্থানীয় ঠিকাদার, চরমপন্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাধর শিক্ষকরা হস্তক্ষেপ করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্নমুখী চাপের কারণে সঠিকভাবে কাজ করতে না পারায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলীমুুজ্জামান টুটুল চলতি মাসের প্রথম দিন উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পদত্যাগের ১৫ দিন পরও তা গ্রহণ করেননি উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলীমুজ্জামান বলেন, ‘কাজ করতে গেলে বিভিন্নমুখী চাপ থাকে। এত চাপ নেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শরীরটাও ভালো না। তাই পদত্যাগ চেয়ে আবেদন করেছি।’

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় এত দিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি। ছুটি শেষে বর্তমানে এই পদত্যাগ নিয়ে চলছে নানামুখী গুঞ্জন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘প্রধান প্রকৌশলী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা এখনো তা গ্রহণ করিনি। তাঁর সঙ্গে কথা বলব। যদি তিনি কাজে কোনো প্রকার বাধা বা হুমকির সম্মুখীন হন তবে আমরা তাঁকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আর কাজে হস্তক্ষেপে কোনো শিক্ষকের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা