kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

ইলিশ নেই, চড়েছে অন্য মাছের দাম

আরেক দফা কমেছে পেঁয়াজের দর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইলিশ নেই, চড়েছে অন্য মাছের দাম

বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর মাছের বাজারে রাজত্ব ছিল ইলিশের। দাম নাগালে থাকার কারণে শুধু বাজারেই নয়, ঢাকার বিভিন্ন অলিগলিতেও দেদার ইলিশ বিক্রি হয়েছে। এ কারণে অন্য মাছের চাহিদা ছিল কম। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ মাছ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত নিষিদ্ধ করার ফলে কদর বেড়েছে অন্য মাছের। এ সময়ে বাজারগুলোতে একটু চড়া দামেই মাছ বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছের বাজার চড়া হলেও আরো এক ধাপ কমেছে পেঁয়াজের দাম।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে রুই, টেংরা, পাবদা, চিংড়ি, কই, সরপুঁটি, তেলাপিয়া, পোয়াসহ বিভিন্ন প্রকারের ছোট মাছ বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাছের পর্যাপ্ত সরবরাহ চোখে পড়েছে।

রামপুরা কাঁচাবাজারে গতকাল সকালে ৫০০ টাকা দিয়ে এক কেজি পাবদা মাছ কেনেন আজিজুর রহমান, যদিও তাঁর কাছে প্রতি কেজির দাম চাওয়া হয়েছিল ৫৫০ টাকা। এই ক্রেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইলিশ যখন ছিল তখন ৪০০ টাকায় পাবদা মাছ কিনেছি। ইলিশ ধরা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ১০০ টাকা বাড়তি গুনতে হলো।’

রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজারে কই মাছ কেনার জন্য দরদাম করছিলেন এক ক্রেতা। বিক্রেতা প্রতি কেজির দাম হাঁকেন ১৮০ টাকা। ক্রেতা ১৪০ টাকা হাঁকলেও বিক্রেতা জানিয়ে দেন ১৬০ টাকার কমে বিক্রি করলে তাঁর লোকসান গুনতে হবে।  আনোয়ার নামের এই ক্রেতা বলেন, ‘চাষের কই ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় কিনি। আজকে ১৬০ টাকা চাচ্ছে।’ একইভাবে বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি টেংরা মাছ মানভেদে প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, মাঝারি আকারের রুই মাছ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, বড় রুই মাছ ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি, সরপুঁটি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৫৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা কেজি, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। কয়েক দিন আগেও বিভিন্ন প্রকারের মলা মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। এখন এগুলো ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে দেখা যায়।    

মাছের চড়া দামের কারণ জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা শফিকুল বলেন, ‘ইলিশ বিক্রি বন্ধ। এখন অন্য মাছের চাহিদা বাড়ছে। হঠাৎ চাহিদা বাড়ার কারণে বাজার একটু চড়া।’ উল্লেখ্য, প্রজনন মৌসুমের কারণে গত ৯ অক্টোবর থেকে সরকার ইলিশ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। মোট ২২ দিন এই নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে।

এদিকে মাসের শুরুতে ভোক্তাদের কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পেঁয়াজের দাম আরো এক ধাপ কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন-চার দিন আগেও ছিল ৯০ টাকায়। কমেছে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও। মিয়ানমার থেকে আমদানি করে আনা পেঁয়াজ দেখতে অনেকটা দেশি পেঁয়াজের মতোই। এই পেঁয়াজগুলো প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভারতীয় ও তুরস্কের পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা