kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস

দেশে মানসিক অসুস্থতার হার বেড়েছে

তৌফিক মারুফ   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে মানসিক সমস্যাগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মানসিক সমস্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে অল্প হলেও শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা আগের চেয়ে কমেছে। 

সরকারি এক জরিপে দেখা গেছে, ১৮ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে মানসিক সমস্যা রয়েছে ১৯.৩ শতাংশের। যা আগে ছিল ১৬.০৪ শতাংশ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ হলো ষাটোর্ধ্ব। আর ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী অর্থাৎ শিশুদের মধ্যে মানসিক সমস্যাগ্রস্তের হার ১৭.৭ শতাংশ। আগে যা ছিল ১৮ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই জরিপের ফল থেকে দেশের মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে আরো জোরালোভাবে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ উঠে এসেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ‘মানসিক স্বাস্থ্যে উন্নয়ন ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ’—এ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ ১০ অক্টোবর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক অসুস্থতা থেকেই দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। আত্মহত্যার চেষ্টা করা মানুষের মধ্যে ২৫ শতাংশই ভুগছে বিষণ্নতায়। যাদের বেশির ভাগই কখনো চিকিৎসা পায়নি। অনেকে আত্মহত্যা না করে উল্টো অন্য কোনো আপনজনকে হত্যা করার মতো অপরাধেও লিপ্ত থাকে। তাঁরা জানান, প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে তিন হাজার মানুষ আত্মহত্যা করছে। এর চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি লোক আত্মহত্যার চেষ্টা করছে।

নতুন এই জরিপ কার্যক্রমের সমন্বয়কারী ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সহায়তায় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট আন্তর্জাতিকমানের সব প্রটোকল মেনে এই জরিপ পরিচালনা করেছে। এ ক্ষেত্রে দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১৮ বছরের বেশি বয়সী মোট আট হাজার ৪০০ জন এবং ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সের মোট দুই হাজার ২০০ জনকে কয়েক দফায় পর্যবেক্ষণ করা হয়।

অধ্যাপক ডা. ফারুক আলম বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে পরিচালিত নতুন এই জরিপের কাজ গত আগস্ট মাসে শেষ হলেও এখনো এর ফল প্রকাশ করা হয়নি। খুব শিগগির আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও সরকারের নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজেবিলিটি প্রটেকশন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম গোলাম রব্বানী কালের কণ্ঠকে বলেন, তরুণ ও যুবক বয়সের মানুষের মধ্যে গত কয়েক বছরে অনিয়ন্ত্রিত ও যথেচ্ছভাবে ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি, নতুন নতুন নানা ধরনের মাদকাসক্তি, পারিবারিক ও ব্যক্তি পর্যায়ের সমস্যা ও অশান্তির মাত্রা বৃদ্ধি, বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগে ভোগার মতো কিছু কারণে বড়দের মধ্যে মানসিক অসুস্থতার হার বেড়ে গেছে বলে মনে হয়। বিশেষ করে হতাশা-বিষণ্নতায় আক্রান্তও হচ্ছে বেশি। সেই সঙ্গে শিশুদের মধ্যে নানা যন্ত্রপাতি নিয়ে মেতে থাকার প্রবণতা, লেখাপড়ার চাপ, খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তাদের মধ্যেও প্রত্যাশিত হারে মানসিক সমস্যা কমছে না।

এই মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, সরকার গত কয়েক বছরে অনেকগুলো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নতি ঘটানোর জন্য। গত বছর মানসিক স্বাস্থ্য আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এ বছর একটি বিশেষ টাস্কফোর্স টেকনিক্যাল টিম গঠন করেছে। ফলে আশা করা যায় পরিস্থিতি দ্রুতই উন্নতি ঘটবে।

আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস : দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সংগঠন শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, কাউন্সেলিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা