kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

হুজিবির শীর্ষ নেতা আতিকুল্লাহর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম দিকে তিনি দুবাই হয়ে সৌদি আরব পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করেন এবং সাংগঠনিক কাজে একাধিকবার পাকিস্তান যান। তিনি আফগানফেরত যোদ্ধা ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজিবি) শীর্ষ নেতা আতিকুল্লাহ ওরফে আসাদুল্লাহ ওরফে জুলফিকার ও তাঁর সহযোগী মো. বোরহান উদ্দিন রাব্বানী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তাঁরা দেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংঘটিত করার জন্য দল গোছাচ্ছিলেন বলে জানান।

গতকাল চার দিনের রিমান্ড শেষে আতিকুল্লাহসহ তিনজন জঙ্গি নেতাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করার আবেদন জানানো হয়। অন্যদিকে তাঁদের সহযোগী হুজিবি নেতা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ওরফে শামীমকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। ঢাকা মহানগর হাকিম মাসুদুর রহমান দুজনের জবানবন্দি তাঁর খাসকামরায় লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন। অন্যদিকে নাজিম উদ্দিন শামীমকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত ৩ অক্টোবর এ তিনজনকে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

এর আগে গত ২ অক্টোবর রাজধানীর খিলক্ষেত নিকুঞ্জ-২-এর বড় মসজিদের মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের কাউন্টার টেররিজম বিভাগ। ওই দিনই খিলক্ষেত থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দুজন বলেছেন, আতিকুল্লাহ দীর্ঘদিন বিদেশে পালিয়ে ছিলেন। গত মার্চ মাসে তিনি দেশে ফিরে আসেন। হুজিবির মুফতি হান্নানের ১৯৯৬ সালে গঠিত কমিটির সাংগাঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরে বায়তুল মাল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম দিকে তিনি দুবাই হয়ে সৌদি আরব পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করেন এবং সাংগঠনিক কাজে একাধিকবার পাকিস্তান যান। তিনি আফগানফেরত যোদ্ধা ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ।

আতিকুল্লাহ এরই মধ্যে সংগঠনকে গতিশীল করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংগঠনিক সফর করেছেন ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছিলেন। পাকিস্তান, দুবাই এবং সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। আফগানিস্তানে যুদ্ধকালীন ওসামা বিন লাদেন, মোল্লা ওমর, আইমান আল জাওয়াহেরিসহ শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন তিনি। তিনি দেশে ফেরার পর হুজিবিকে পুনরায় চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেন। রাব্বানী ও শামীম তাঁকে সহযোগিতা করেন। তাঁরা জবানবন্দিতে বলেন, মুফতি হান্নানসহ হুজিবির বিভিন্ন শীর্ষ নেতার ফাঁসি ও অনেক নেতা কারাগারে থাকার পর দলটি প্রায় নিঃশেষ হতে চলেছে। এ অবস্থায় তাঁরা দলের হাল ধরতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু সদস্য সংগ্রহ করেছেন তাঁরা। তাঁরা বর্তমানে কাশ্মীর সমস্যা এবং রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে পুঁজি করে নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা