kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

আবরার হত্যাকাণ্ড

তারকাদের নিন্দা-ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তারকাদের নিন্দা-ক্ষোভ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় সমাজের নানা শ্রেণির মানুষ সরব হয়েছেন। নিন্দার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শামিল হয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারা।

গতকাল দুপুরে অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন ফেসবুকে লেখেন, ‘বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ’৬৯ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন আমার বাবা। সারা জীবন তাঁর মুখে গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হওয়া এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন ছিল আমারও। ভর্তি পরীক্ষার ফরম তোলার সময় ঢাকার বাইরে থাকায় পরীক্ষাই দিতে পারিনি আমি! সেই দুঃখ ভোলার জন্য প্রায়ই ভেবেছি পুত্রদ্বয়ের যেকোনো একজন যেন এই মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার হতে পারে।’

তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ছাত্র ছিল আবরার। আবরারের কথা ভাবি আর আমার পুত্রদ্বয়ের মুখের দিকে তাকাই। আমার বুক কাঁপে। বাচ্চা দুটোর পিঠ, হাত-পায়ের ওপর হাত বুলিয়ে দেই। ছোটবেলায় এ রকম ছোট ছোট হাত-পাই তো ছিল আবরারের! তার মা কত রাত পিঠে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছেন! একেকটা আঘাতে ছেলেটা কি ‘মা গো’ বলে চিৎকার দিয়েছিল? ‘মা গো’ ডাক শুনে খুনি ছেলেগুলোর কি একটুও নিজের মায়ের কথা মনে পড়েনি! ঠিক কতবার..., কতক্ষণ ধরে..., কতটুকু আঘাত করলে ২০-২১ বছরের একটা তরুণ ছেলে মরেই যায়! আমি আর ভাবতে পারি না।”

সব শেষে শাওন লিখেছেন, ‘নুসরাতকে ভুলে গিয়েছি, আবরারকেও ভুলে যাব, বিচার চাই বলে লাভ আছে কি না জানি না, তবুও বিচার চাই।’

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছেন, ‘বুয়েটের নিউজটা মাত্র দেখলাম। দেখে গলাটা শুকাইয়া গেল। এই সমাজই তো আমরা সবাই মিলে বানাচ্ছি, নাকি? যেখানে আমার মতের বিরোধী হলে তাকে নির্মূল করা আমার পবিত্র দায়িত্ব। আমাদের সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় নেতারা সবাই মিলে তো এত বছর এই কামই করছি, এই ভাবেই একটা প্রজন্ম বানাইছি! আর আমাদের এই নির্মূলবাদী মন বানানো হইছে বাংলার বুদ্ধিজীবীদের ওয়ার্কশপে! তাই আমি তোমাদের অভিশাপ দেই! আমি অভিশাপ দেই কারণ তুমি এই ঘৃণা আর নির্মূল তত্ত্বকে মহৎ বানিয়ে প্রচার করেছো দেশের নামে, জাতীয়তার নামে, ধর্মের নামে, লিঙ্গের নামে, আমার নামে, তোমার নামে! আমি অভিশাপ দেই তাদের যারা আমাদের সমাজটাকে এই জায়গায় এনে দাঁড় করাল, যেখানে অপ্রিয় কথা বলার জন্য সহপাঠীকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়! আমি অভিশাপ দেই! অভিশাপ দেই! অভিশাপ দেই! কারণ আমার কিচ্ছু করার ক্ষমতা নাই, কেবল অভিশাপ দেয়া ছাড়া!’

আবরার ফাহাদের বাবার একটি ছবি প্রকাশ করে উপস্থাপিকা মারিয়া নুর লিখেছেন, এখন বাংলাদেশ এটাই।

বিশিষ্ট গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ লেখেন, ‘আবরার ফাহাদ দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ছাত্র। সে ঢাকা মেডিক্যালেও চান্স পেয়েছিল। ঘুমানোর আগে অন্তত একটা প্রতিবাদ করে ঘুমান। আমাদের বাচ্চারাও বড় হচ্ছে।’

নাট্যকার মাসুম রেজা লেখেন, ‘কান্দিগো মা, কান্দি পিতা, কাঁদিয়া জুড়াই প্রাণ/কবরে শুইয়েছো যারে সেতো আমাদেরও সন্তান’।

নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী লেখেন, ‘শুভ বিজয়ার এই দিনে মন ভালো নেই। শুধুই মনে হচ্ছে, এই ছেলেটি (আবরার) আমার সন্তান হতে পারত। প্লিজ মতের মিল না হলে আমাকে মেরে ফেলেন না, আমাদের সন্তানের ওপরেও এই কাজ করবেন না। প্লিজ।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা