kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কার্প ও দেশীয় ছোট মাছের উৎপাদন বাড়াতে সমৃদ্ধ হচ্ছে ব্রুড ব্যাংক

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুণগত মানসম্পন্ন কার্পজাতীয় ও দেশীয় ছোট মাছের উৎপাদন বাড়াতে স্থাপন করা হয়েছে ব্রুড ব্যাংক বা প্রাপ্তবয়স্ক কৌলিতাত্ত্বিক গুণসম্পন্ন প্রজননক্ষম মাছের ভাণ্ডার। সরকারি ও বেসরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে গুণগত মানসম্পন্ন ব্রুড মাছ ও পোনা উৎপাদনে এই ব্রুড ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগও বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মৎস্য খাতের এই সমৃদ্ধির যুগেও (বাংলাদেশ যখন মৎস্য খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রায়) কিছু কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে উন্নত পোনা উৎপাদনের জন্য গুণগত মানসম্পন্ন ব্রুড মাছের অপর্যাপ্ততা। সেই সঙ্গে রয়েছে দেশীয় ছোট প্রজাতির মাছের বিলুপ্তির আশঙ্কা। 

এসব সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে মৎস্য অধিদপ্তর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ‘ব্রুড ব্যাংক স্থাপন প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়)’ হাতে নেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল সরকারি ও বেসরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে গুণগত মানসম্পন্ন ব্রুড মাছ ও পোনা মাছ উৎপাদন। এ ছাড়া উন্নত কৌলিতাত্ত্বিক গুণসম্পন্ন কার্প ও দেশীয় ছোট প্রজাতির ব্রুড স্টক তৈরির মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানো। এ লক্ষ্যে হালদা, পদ্মা, যমুনা নদীর প্রাকৃতিক উৎসের রেণু থেকে ৩৫ মেট্রিক টন কার্প ব্রুড তৈরি এবং এসব কার্প ব্রুড থেকে ৫০ মেট্রিক টন রেণু উৎপাদন করা হয়েছে। এই রেণু থেকে উৎপাদন সম্ভব হয়েছে ৩০ লাখ কার্পের পোনা। এ ছাড়া দেশীয় গুলসা, পাবদা, শিং ও মাগুরের শূন্য দশমিক ২৮ মেট্রিক টন ব্রুড তৈরি করে সেখান থেকে তিন লাখের বেশি পোনা উৎপাদন করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় চলতি বছর প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প ও বিগ হেড কার্পের সর্বোচ্চ জেনেটিক গুণসম্পন্ন ৩৯ হাজার পোনা চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, ৪০ বছর আগে আশির দশকে মাছ চাষ উন্নয়নে ব্রুড মাছ ও পোনা মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিদেশ থেকে কিছু কিছু প্রজাতির মাছ আমদানি করা হয়েছিল, যার মধ্য এই তিন প্রজাতির মাছ অন্তর্ভুক্ত ছিল। কম খরচ ও উৎপাদন বেশি হওয়ায় এই প্রজাতির মাছগুলো ব্যাপকভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এত বছরের ব্যবধানে এই প্রজাতিগুলোর মধ্যে অন্তঃপ্রজনন হার ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় পরবর্তী সময়ে উৎপাদিত পোনাগুলোর বৃদ্ধির হার ও গুণগত মান কমতে থাকে।

এসব সমস্যার কথা চিন্তা করে এবং ভবিষ্যতের জন্য গুণগত মানের পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যে চীন ও রাশিয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ‘আমুর’ নদীতে উৎপন্ন উল্লিখিত তিনটি প্রজাতির প্রায় ৩৯ হাজার পোনা আমদানি করা হয়েছে, যেগুলোকে নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্রুড মাছে পরিণত করা হচ্ছে। পোনাগুলোকে আমদানির সময় এদের আকার ছিল তিন থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার।

এ বিষয়ে ব্রুড ব্যাংক প্রকল্প পরিচালক ড. সিরাজুর রহমান বলেন, ‘উন্নত কৌলিতাত্ত্বিক গুণাগুণসম্পন্ন ব্রুড মাছ ও মৎস্যবীজ উৎপাদনের জন্য ব্রুড ব্যাংক প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যাবশ্যক। বর্তমান সরকারের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন তথা সব মানুষের প্রয়োজনীয় প্রাণিজ আমিষ সরবরাহ নিশ্চিতকরণে প্রকল্পটি ব্যাপক অবদান রাখবে।’

মৎস্য অধিদপ্তরের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের হিসাব মতে, দেশে ১৪ লাখ ১১ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন কার্পজাতীয় মাছের উৎপাদন হয়েছে। এটা মোট মাছ উৎপাদনের ৩৩.০১ শতাংশ। এর মধ্যে রুই, কাতল, মৃগেলের মতো দামি কার্পজাতীয় মাছের উৎপাদন হয়েছে আট লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৭ মেট্রিক টন, যা মোট উৎপাদনের ১৯.৭৯ শতাংশ। অন্যদিকে সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প ও বিগ হেড কার্পসহ এজাতীয় মাছের উৎপাদন হয়েছে চার লাখ ৩০ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন; যা মোট উৎপাদনের ১০.৬১ শতাংশ। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় এবং চাষকৃত মৎস্য উৎপাদনে পঞ্চম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা