kalerkantho

দ্রুত বিচার আইনের মামলা

প্রথম সাক্ষ্য সাড়ে ৬ বছর পর!

আশরাফ-উল-আলম   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন করা কিছু অপরাধের সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারের জন্য। এ আইনে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করার পর ৬০ কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন করার কথা বলা আছে।

কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এমন একটি দ্রুত বিচার আইনের মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর ছয় বছর সাত মাস ১১ দিন পর গতকাল প্রথম একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলেন। এত দিন পর্যন্ত মামলার তারিখের পর তারিখ পড়ছে। দেশের আদালতগুলো মামলাজটে আবদ্ধ থাকলে এ মামলা নিষ্পত্তির তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ঢাকা মহানগর হাকিম ও দ্রুত বিচার আদালত-৭-এ মামলাটি বিচারাধীন।

গতকাল আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী মো. মাসুদ রানা। তিনি আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, আসামিদের প্রতি তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। আদালতের প্রশ্নের জবাবে বাদী বলেন, তিনি চাকরি করেন। মালিক তাঁকে মামলাটি আসামিদের সঙ্গে আপস করতে বলেছেন। তাই তিনি আপস করেছেন। অথচ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে আসামিরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী।

আদালতে উপস্থিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, আপসই যদি হবে তাহলে এত দিন ধরে আদালতে হাজির না হওয়ার কারণ কী।

এ মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী শহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজ (রবিবার) এই মামলার বাদী প্রথম সাক্ষ্য দিয়েছেন। উভয় পক্ষের মধ্যে আপস হওয়ায় তিনি সাক্ষ্য দেন। আদালত মামলার সব কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে আগামীকাল (আজ সোমবার) রায়ের দিন ধার্য করেছেন।’

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মো. মাসুদ রানা ট্রপিক্যাল হোমস লিমিটিডের একজন প্রকৌশলী। রাজধানীর ২২৪/১, নিউ ইস্কাটন রোডের একটি বাড়ির নির্মাণকাজ চলা অবস্থায় এলাকার আলী এহসান ওরফে জীবন ব্যাপারী, বিল্লাল হোসেন গাজী, মো. সিরাজ, মো. সুমন, সাঈদসহ আরো চার-পাঁচজন পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। মাসুদ রানা চাঁদার টাকা দিতে অসম্মত হলে ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাত অনুমান পৌনে ১১টার সময় নির্মাণাধীন ওই ভবনে প্রবেশ করে নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুর করে ত্রাস সৃষ্টি করে অভিযুক্তরা। এ কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করলে অভিযুক্তরা মাসুদ রানা ও ভবনের নিরাপত্তীরক্ষীকে বেদম মারধর করে মারাত্মক জখম করে। মাসুদ রানার কাছ থেকে ২২ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। বাদীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে জীবন ব্যাপারীকে ধরে ফেলে। খবর দেওয়া হলে রমনা থানার পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয়।

ঘটনার পরদিন প্রকৌশলী মাসুদ রানা রমনা থানায় মামলা করলে মামলাটি আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের ৪ ও ৫ ধারায় থানায় রেকর্ড হয়। দ্রুত বিচার আইনের বিধান মতে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় রমনা থানার পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই নাজমুল ইসলাম।

মামলার নথি থেকে দেখা যায়, তদন্ত কর্মকর্তা মামলার বাদীসহ ৯ জনকে সাক্ষী করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুল ইসলাম ও মামলা রুজুকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শাহীনুর আলম রয়েছেন। মামলার অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে সমন, অজামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাঠিয়েছেন আদালত। কিন্তু কোনো সাক্ষীই আদালতে হাজির হয়নি।

আইনজীবী শহিদুল ইসলাম বলেন, দ্রুত বিচার আইন ৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার কথা; কিন্তু তা হয়নি।

মন্তব্য