kalerkantho

কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোল

রওশন এরশাদ ও নায়ক আলমগীরের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে প্রতারকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তারা দীর্ঘদিন ধরেই সারা দেশে মোবাইল ফোনে প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদা আদায় করে আসছিল। এবার কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের নামে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে এই সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের দুই সদস্য। গত শনিবার রাতে কক্সবাজার সাগরপার থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ, চিত্রনায়ক আলমগীর, নেত্রকোনার সংসদ সদস্য (এমপি) ওয়ারিশ উদ্দিন বেলালসহ অনেকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছে তারা।

আটককৃতরা হলো সিরাজগঞ্জ সদরের দরগা রোড এলাকার মৃত করিম উদ্দিন শেখের ছেলে সোহেল আহমদ শেখ (৩৮) ও মো. শামসুল আলম শেখের ছেলে গোলাম মোস্তফা শেখ (৩৬)।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদউদ্দিন খন্দকার বলেন, তাঁরা ওই দুজনকে আটক করে গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

আটক দুজন কক্সবাজার ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে, গত ঈদুল আজহার আগে তারা জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর নামে তারা এ টাকা আদায় করে। এ ছাড়া তারা এমপি ওয়ারিশ উদ্দিন বেলালের (কর্নেল আবু তাহেরের ভাই) কাছ থেকে ১৬ হাজার ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আলমগীরের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করেছে। কক্সবাজারে ডেরা পেতে এই প্রতারকচক্র স্থানীয় একজন পৌর কাউন্সিলর, ব্যবসায়ীসহ অনেকের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়েছে।

কক্সবাজার জেলা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মানস বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, আটক দুজন জানিয়েছে, তাদের দলে পাঁচজন আছে। সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের একজন নিরক্ষর, একজন এসএসসি পাস ও অন্য তিনজন প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত পড়েছে। পাঁচ বছর ধরে তারা এমন প্রতারণা করছে। কয়েকবার ধরা পড়ে কারাগারেও ছিল। চক্রের অন্য তিন সদস্যকে পুলিশ খুঁজছে বলে জানান মানস বড়ুয়া।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, সর্বশেষ শনিবার কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের নামে ওষুধ কম্পানি ‘বায়োফার্মা’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করে চক্রটি। এরপর প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতারক দুজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘শনিবার কক্সবাজারের বিএমএর (বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন) সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আমাকে চাঁদা দাবির তথ্যটি জানান। বেসরকারি মোবাইল অপারেটর রবির একটি নম্বর থেকে প্রতারকরা কম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে রোহিঙ্গা শিবিরের ত্রাণ কার্যক্রমের কথা বলে আমার নামে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।’

মন্তব্য