kalerkantho

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

প্যাথলজি বিভাগের স্টাফ ও নার্সদের সংঘর্ষে ২০ জন আহত

রিপোর্ট নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের স্টাফ এবং হাসপাতালের নার্সদের (পুরুষ) মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্যাথলজি বিভাগে রিপোর্ট নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার প্যাথলজি বিভাগে প্রতিদিনের মতো আগের দিনের জমা দেওয়া রক্তের রিপোর্টের জন্য রোগীরা লাইন ধরে অপেক্ষা করছিল। রিপোর্ট আগে দেওয়া আর লাইনে থাকা না থাকা নিয়ে হাসপাতালের স্টাফ ও নার্সদের মধ্যে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় হাসপাতালের অন্য নার্সরা খবর পেয়ে মিছিল নিয়ে প্যাথলজি বিভাগে এলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বড় আকার ধারণ করে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাছির উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্যাথলজি বিভাগে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। এটা ভুল বোঝাবুঝির জন্য হয়েছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমঝোতা করে দিয়েছি। এর পরও ঘটনার মূল কারণ জানার জন্য পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

জানা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত রাসেল নামে এক কর্মী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজের আত্মীয়ের রক্তের রিপোর্ট নিতে প্যাথলজি বিভাগে যান। লাইনে দাঁড়িয়ে রক্তের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকার পর তিনি নিজেকে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয় দিয়ে রিপোর্ট দিতে দেরি হওয়ার কারণ জানতে চান। এ সময় রিপোর্ট দেওয়ার কাজে দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন, স্টাফ হলেই রিপোর্ট আগে দিতে হবে কেন? এ কথা নিয়ে বিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে রাসেলের সঙ্গে থাকা আরো কয়েকজন প্রতিবাদ করলে প্যাথলজিতে থাকা স্টাফরা বের হয়ে কয়েকজনকে মারধর করেন।

এদিকে প্যাথলজি বিভাগে কয়েকজন নার্সকে আটকে রেখে মারধর করা হচ্ছে—এমন খবর হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়লে অন্য নার্সরা মিছিল নিয়ে সেখানে যান। তখন প্যাথলজি বিভাগের গেট বন্ধ করে দেওয়া হলে ভেতরে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়।

এ ব্যাপারে ডা. আজিজ বলেন, ‘আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি, একপর্যায়ে তারা আমার ওপর হামলা করে।’ অন্যদিকে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামাল পাটোয়ারী বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের কয়েকজন নার্সকে তারা আটক করে মারধর করে। পরে তাদের স্টাফরা দফায় দফায় হামলা চালায়। যারা হামলা করেছে তাদের বিচার করতে হবে।’

মন্তব্য