kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ওয়েট ব্লু রপ্তানির পক্ষে নাটোরের ব্যবসায়ীরা

চামড়া কারসাজির জন্য ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের দায়ী করছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

রেজাউল করিম রেজা, নাটোর   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাটোরের ব্যবসায়ীরা ট্যানারি মালিকদের উদাসীনতার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগ করেছে। একই সঙ্গে ওয়েট ব্লু রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় চামড়ার দরপতন হচ্ছে বলেও দাবি করছে তারা। এই ব্যবসায়ীরা মনে করছে, ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির সুযোগ দিলে কাঁচা চামড়ার বাজার আবার চাঙ্গা হবে। 

অন্যদিকে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছে, ট্যানারি মালিক ও আড়তদাররা মিলে কারসাজি করে চামড়ার দাম কমিয়েছে। এ চক্রের কাছে সবাই এখন জিম্মি।

নাটোর শহরের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আড়তে কাঁচা চামড়া নিয়ে আসছে। তবে ঢাকা থেকে ট্যানারি মালিক অথবা তাদের কোনো প্রতিনিধি এখনো নাটোরে চামড়া কেনার জন্য আসেনি। স্থানীয়ভাবে অল্প কিছু চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে। লবণজাত গরুর কাঁচা চামড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা বর্গফুট এবং খাসির চামড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা বর্গফুট দরেই কেনাবেচা হচ্ছে। 

নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সহসভাপতি লুউৎক্ষের রহমান লাল্টু বলেন, সাধারণত ঈদের আগে ট্যানারি মালিকরা তাঁদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে দেয়। ফলে তাঁদের পুঁজিসংকট থাকে না। এ বছর পাঁচ-ছয়টি ট্যানারি ছাড়া কেউ নাটোরের কোনো কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা পরিশোধ করেনি। শুধু কাঁচা চামড়া রপ্তানি সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ নয়। ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির সুযোগ দিতে হবে বলে মনে করেন এ ব্যবসায়ী।

আরেক ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল আলম হিরু বলেন, ‘একসময় আমাদের দেশ থেকে ওয়েট ব্লু চামড়া বিদেশে রপ্তানি করা হতো। তখন চামড়া ব্যবসায়ীদের ছিল স্বর্ণযুগ। কিন্তু ৯০-এর দশকে ওয়েট ব্লু রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

ঈদের পরে গত দুই দিন নাটোরের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রত্যেকেই চামড়া কিনে লোকসান দিচ্ছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আড়তদাররা চামড়া কিনছে না। যে চামড়া তারা ৮০০ টাকায় কিনেছে সেটি বিক্রি করতে হচ্ছে ৪০০ টাকায়। নাটোরের আড়তগুলোতে গরুর চামড়া ৩০০-৪০০ টাকা এবং খাসির চামড়া ২০-৩০ টাকা বলছে।

তবে নাটোরের বড় বড় কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা বলছে, নাটোরের বেশির ভাগ আড়তদার বর্তমানে মূলত কমিশন ভিত্তিতে চামড়া কেনাবেচা করে। সুতরাং লাভ-লোকসানের ব্যাপারটি নির্ভর করে যারা চামড়া নিয়ে আসছে অথবা যারা চামড়া কিনছে।

নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যে চামড়া কিনি, লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াকরণ করতে গরু ও মহিষের চামড়াপ্রতি আরো ২০০-৩০০ টাকা খরচ হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘দাম না জেনে কোনো কোনো মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা তাদের চামড়া গুদামে প্রক্রিয়াকরণ করে দিচ্ছি যাতে তাদের লোকসান করতে না হয়।’

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সালমা ট্যানারির মালিক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘ট্যানারির মালিকরা পাওনা অর্থ পরিশোধ করছে না, এ কথা ঠিক নয়। ঢালাওভাবে অভিযোগ করাও ঠিক হচ্ছে না। কারণ বেশির ভাগ ট্যানারি আড়তদারদের টাকা দিয়েছে। তারা কম দামে চামড়া কিনছে। আমাদের কাছে বেশি দামেই চামড়া বিক্রি করবে। লবণযুক্ত চামড়া আমাদের এক হাজার টাকার ওপরে কিনতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা