kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

১০০ টাকার ডেঙ্গু কিট ৫০০!

জহিরুল ইসলাম   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশজুড়ে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু পরীক্ষার এনএস-এক কিট। এই সুযোগে বাজারে নিম্নমানের এনএস-এক কিট পাইকারি বিক্রি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। চীন থেকে আনা এই কিট পাইকারি ১০০ টাকায় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে নামিদামি সব হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও খুচরা দোকানে। আর রোগীর কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা। বেচাকেনার এ তথ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা করছে লুকোচুরি।

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ওষুধের দোকানে চীন থেকে আনা নিম্নমানের এনএস-এক কিট থাকলেও নেই বলে লুকোচুরি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এই কম দামি কিট ব্যবহার করছে।

বিষয়টি দৃষ্টিতে আনলে র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চাহিদা বাড়ায় এমনটা হতে পারে। নিম্নমানের কিট বাজারে আসার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বুধবার পুরনো ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইস্টার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মুনলাইট ক্লিনিক, মেডিলাইট স্পেশালাইজড হাসপাতাল, আল-আরাফাহ হাসপাতালসহ আশপাশের সব কটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা করা হচ্ছে। আল-আরাফাহ হাসপাতালের অভ্যর্থনা কক্ষে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা যায় কি না জানতে চাইলে হ্যাঁসূচক জবাব পাওয়া যায়। এনএস-এক কিট কেনা যাবে কি না জানতে চাইলে বলা হয়—এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। এটি সিক্রেট। কেউ জানে না এটি কোথা থেকে আসছে। নিজেরা কোথা থেকে কিনছেন সেটাও জানাতে কেউ রাজি হননি।

এমন গোপনীয়তার বিষয়ে কথা বলতে আল-আরাফাহ হাসপাতাল মিটফোর্ড শাখার ম্যানেজার ওয়াহিদুজ্জামানের কাছে ফোন করলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি তো ফোনে কোনো মন্তব্য দেব না। আপনি এসে বক্তব্য নিয়ে যান।’ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানায়, কী পরীক্ষা করছে বুঝতে পারছি না। টাকা নিয়ে রক্ত নিল। আর কিছু জানতে চাইলে বলে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের উল্টো পাশে বিএম ভবন ওষুধ মার্কেটে গিয়েও দেখা গেল একই ধরনের গোপনীয়তা। জানা গেছে, ওই মার্কেটের এ্যাপোলো সার্জিক্যাল গত কয়েক দিনে বিপুল পরিমাণ কিট আমদানি করেছে চীন থেকে। কিটপ্রতি তাদের খরচ পড়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকা। তারা পাইকারি বিক্রি করছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। একইভাবে আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী নিম্নমানের এই এনএস-এক কিট সংগ্রহ করে গোপনে পাইকারি বিক্রি করছে। একই মার্কেটের সাফ এন্টারপ্রাইজে গিয়ে এনএস-এক কিট পাইকারি কিনতে চাইলে মালিক খান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আপনার ডায়াগনস্টিক সেন্টার কোথায়? প্রতিষ্ঠানের কার্ড দেন। কতকগুলো লাগবে?’

২০০ পিস বললে তিনি প্রতি পিসের দাম বললেন, ২৮০ টাকা। অন্য দোকানে কম দামে বিক্রি হচ্ছে বললে তিনি বলেন, ‘সেগুলো কিসের কিট জানি না। এত কম দামে আমরা কিনতেও পারিনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, ডেঙ্গু পরিমাপের এনএস-এক কিট বাজারে সংকট। পাইকারি বিক্রেতাদের জন্য সরকার ৩৫০ টাকা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে চীনা একটি কিট কয়েকজন ব্যবসায়ী বিক্রি করছে। ওই কিটে সব সময় সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না। নিম্নমানের কিট ১৮ থেকে ২০ টাকায় এনে ইচ্ছামতো বিক্রি করছে।

পরিচয় গোপন রেখে তোপখানা রোড বিএমএ ভবনের চতুর্থ তলায় এ্যাপোলো সার্জিক্যালে গিয়ে পাওয়া যায় মালিক মোহাম্মদ সুমন আহমেদ ওরফে আজমেরী সুমনকে। লালবাগের এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পরিচয় দিয়ে কম দামি কিট পাইকারি নিতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আছে। ১০০ টাকা করে লাগবে। বুধবার পর্যন্ত ২০০-২৫০ টাকায় ছেড়েছি, এখন কম দামেই দিয়ে দিচ্ছি।’ এরপরই তিনি ভাউচার বের করে দেখান বার্ডেম হাসপাতালের কাছে ১০০ টাকা করে ৪০০ পিস এনএস-এক কিট বিক্রির প্রমাণ।

কিভাবে এত কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দাম কমবেশি নাই। যা-ই নিবেন ১০০ টাকা। কোরিয়া ন কিট বাংলাদেশে নাই। সব ভারত আর চীন থেকে আসা।’

পরে সাংবাদিক পরিচয়ে মেবাইলে আজমেরী সুমনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, জুলাইয়ে ৫ তারিখে চীন থেকে তিনি নিজেই এনএস-এক ডেঙ্গু কিট আমদানি করেছেন। মানের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। তবে কম দামে কিনে, কম দামেই বিক্রি করছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা