kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

বুথের ভেতরে নিরাপত্তাকর্মী খুন

সিসি ক্যামেরায় ফুটেজ থাকলেও খুনি অধরা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঈদ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আসার কথা ছিল এবি ব্যাংকের বুথের নিরাপত্তাকর্মী আব্দুর রাজ্জাকের (৫০)। কিন্তু এক দিন আগেই তাঁকে লাশ হয়ে ফিরতে হলো। বুথের ভেতর অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীর হাতে প্রাণ দিতে হলো তাঁকে। গত বুধবার ভোরে গাজীপুর জেলার গাছা থানার বোর্ডবাজারে এবি ব্যাংকের একটি বুথের ভেতর দায়িত্ব পালনের সময় সন্ত্রাসীরা তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে।

গত বুধবার রাতে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরপুম্বাইল গ্রামে লাশ আনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারে চলছে মাতম। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বৃদ্ধ বাবা ও স্ত্রী-সন্তানরা দিশাহারা। সিসি ক্যামেরায় পুরো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধারণ হলেও এখনো খুনিকে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবার জানায়, নিহত আব্দুর রাজ্জাক চরপুম্বাইল গ্রামের মাহমুদ আলীর ছেলে। মাত্র দুই মাস আগে মিলিনিয়াম কার্টিজ সিকিউরিটি বাংলাদেশ লিমিটেড কম্পানিতে চাকরি শুরু করেন। গাজীপুরের বোর্ডবাজারে এবি ব্যাংক শাখার এটিএম বুথে গত বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব ছিল। সকালে এক গ্রাহক বুথে তাঁর লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পায়। পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়।

গাছা থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন জানান, অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসী সিকিউরিটি নাইটগার্ড জাহাঙ্গীর আলমকে চাকু দিয়ে নাক, মুখ, গলা, পেট কেটে ও কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে নিহতের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। সিসি ক্যামেরায় দেখা যায় হত্যাকারীর পরনে লুঙ্গি ও মুখ গামছা দিয়ে ঢাকা ছিল। ওসি আরো জানান, হত্যাকারী বুথ থেকে কোনো টাকা-পয়সা বা অন্য কিছু নেয়নি। ব্যাংকের সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করে হত্যাকারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে গত বুধবার রাতে নিহতের গ্রামের বাড়িতে গেলে দেখা যায় ঈদের প্রস্তুতির বাড়িটিতে শোকের মাতম চলছে। অশীতিপর বৃদ্ধ বাবা মাহমুদ আলী ছেলের মৃত্যুকে কোনোভাবে মেনে নিতে পারছেন না। বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক মাত্র ছেলে লাশের ওপর পড়ে বাবা বাবা বলে চিৎকার করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা