kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলা

কালাজ্বরের অস্তিত্ব থাকলেও কমেছে ভয়াবহতা

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বছর ১৫ আগেও ময়মনসিংহের পশ্চিমাঞ্চলীয় কয়েকটি উপজেলায় কালাজ্বর ছিল আতঙ্কের এক নাম। বিশেষ করে ফুলবাড়িয়া, ত্রিশাল, ভালুকা, মুক্তাগাছা এলাকায় এ জ্বরের প্রকোপ ছিল বেশি। তবে সেই আতঙ্ক আর নেই। এসব উপজেলায় কালাজ্বর এখনো থাকলেও ভয়াবহতা কমে গেছে অনেকখানি।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য মতে, কালাজ্বরের বাহক বেলে মাছি নিধনে নিয়মিত কার্যক্রম চালানো, যথাযথ চিকিৎসাসেবা, এলাকাবাসীর সচেতনতা এবং গ্রামাঞ্চলের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ কমে যাওয়াতেই কালাজ্বর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

২০০০ সালের দিকে ময়মনসিংহের কয়েকটি উপজেলায় কালাজ্বর নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক দেখা দেয় ফুলবড়িয়ায়। এ ছাড়া মুক্তাগাছা, ত্রিশাল, ভালুকাতেও ছড়ায় আতঙ্ক। কালাজ্বরে আক্রান্ত রোগীর কমবেশি সন্ধান মিলতে থাকে গফরগাঁওসহ আরো কয়েকটি উপজেলায়। কালজ্বরের বাহক ছিল বেলে মাছি। যা মূলত মাটির ঘরের ফাঁকা অংশে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ও গোয়ালঘরে জন্মাত। ফুলবাড়িয়া উপজেলায় মাটির ঘর বেশি থাকায় বেলে মাছির প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দেয়। ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ফুলবাড়িয়া উপজেলাতেই কালাজ্বরে আক্রান্ত হয় অন্তত ১০ হাজার মানুষ।

২০০৭ সালের ২ অক্টোবর এক শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকার তথ্য মতে, ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই ১৩৯ জনের দেহে কালাজ্বরের জীবাণু পাওয়া যায়। ২০০৭ সালে ফুলবাড়িয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় প্রায় এক হাজার মানুষ।

ময়মনসিংহ অঞ্চলে কালাজ্বরের এমন ভয়াবহ বিস্তার রোধে জাইকার সহায়তায় শহরের এসকে হাসপাতালে চালু হয় কালাজ্বর গবেষণা কেন্দ্র। গবেষণাকেন্দ্রটি চালুর পর কালাজ্বরের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসে। একই সঙ্গে বেলে মাছি নিধনে শুরু হয় কার্যক্রম।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে, ২০১৫ সালে ফুলবাড়িয়া উপজেলায় কালাজ্বরের নতুন রোগী ছিল ৬৭ জন। ২০১৮ সালে ছিল ১০ জন। বর্তমান বছরে এখন পর্যন্ত এ সংখ্যা চারজন।

২০১৫ সালে ত্রিশাল উপজেলায় কালাজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৪ জন। ২০১৮ সালে আক্রান্ত হয় সাতজন। এ বছর আক্রান্ত হয় দুজন।

একইভাবে মুক্তাগাছা ও ভালুকা উপজেলায় গত কয়েক বছরে কালাজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

কালাজ্বর গবেষণা কেন্দ্রেও রোগীর সংখ্যা কমেছে। গত রবিবার সেখানে দুজন রোগী পাওয়া যায়। তাদের একজন ঠাকুরগাঁওয়ের রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ২৫ বছর আগে তাঁর কালাজ্বর হয়। জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে আসা আরেক রোগী বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি সাতবার এ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ইকবাল আহমেদ নাসের বলেন, বেলে মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রম, উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং স্থানীয়দের সচেতনতার কারণে কালাজ্বর অনেক কমে গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা