kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

দিশাহারা কৃষক কর্তৃপক্ষ নির্বিকার

ভৈরবে ৪০০ হেক্টর আউশ পানির নিচে

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বিভিন্ন এলাকায় আউশ ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রায় এক মাস ধরে এসব ধানি জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় বর্তমানে ধানগাছে পচন ধরেছে। এমন পচন ধরা জমির পরিমাণ কমপক্ষে ৪০০ হেক্টর। ফলে এ বছর মোট উৎপাদিত ফসল থেকে ৫৪ হাজার মণ ধান কম উৎপাদিত হবে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা। এমন ক্ষতির আশঙ্কায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। এদিকে কৃষকদের এমন দুরবস্থায়ও মাথাব্যথা নেই স্থানীয় কৃষি অফিসের। পানির নিচে তলিয়ে থাকা ধানি জমির কোনো হিসাব বা পরিসংখ্যান পর্যন্ত নেই কৃষি বিভাগের কাছে। এতে ক্ষুব্ধ কৃষকরা।

ভৈরবের শিবপুর, কালিকাপ্রসাদ, পানাউল্লাহর চর, গাজির টেক, সাদেকপুর, শিমুলকান্দি, চণ্ডিবের, রামশংকরপুর, কালীপুর, ইমামের চর, গজারিয়া ও শ্রীনগরসহ বিভিন্ন এলাকার ৯৫০ হেক্টর জমিতে এবার আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। সেচ, সার, কীটনাশক ও সঠিক পরিচর্যায় ফলনও হয় বাম্পার। এ অঞ্চলে এবার বন্যাও দেখা দেয়নি। কিন্তু সম্প্রতি টানা বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাঝারি ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। এতে আউশ ধানের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। তলিয়ে যাওয়া জমিগুলোর প্রতিটিতে ধান বের হওয়া শুরু হচ্ছিল মাত্র। এত দিন পানির নিচে থেকে সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হওয়ার পথে। প্রতি হেক্টরে ১৩৫ মণ আউশ ধান উৎপাদিত হতো। এ হিসাবে ৪০০ হেক্টর জমিতে কম করেও ৫৪ হাজার মণ ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পথে। ৫০০ টাকা প্রতি মণ হিসাবে এর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে গাজিরটেকের আব্দুল আজিজ নামের এক কৃষক বলেন, ‘গত ২০-২২ দিন ধইরা আমার আউশ ধানের ক্ষেত পানির নিচে পইরা রইছে। সব ধানগাছ পচা ধরছে। কিন্তু কৃষি অফিসের কেউ আমরার খবর নিছে না।’ পানাউল্লার চরের মিলন মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘লাভের আশায় ঋণ কইরা আউশ ধান করছিলাম। সব জমি পানির নিচে ডুইবা গেছে। সরকার যদি আমাদের তালিকা কইরা কিছু সাহায্য-সহযোগিতা দিত আমরা কোনো রকমে বাইচ্চা থাকতাম!’ শুধু আজিজ আর মিলনই নন, ভৈরবে এবার আউশ ধান রোপণকারী শিবপুরের মনির হোসেন, শ্রীনগরের ধন মিয়া, চণ্ডিবের গ্রামের মাসুদ মিয়া, রামশংকরপুরের লিটনসহ কমপক্ষে ১০ হাজার কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে।

ভৈরব কৃষি কর্মকর্তা আলম শরীফ খান বলেন, ‘ভৈরবে আউশ ধানের এখন পর্যন্ত তেমন ক্ষতি হয়নি। কৃষকরা যেসব জমিতে আউশ আবাদ করেছে, তার সবগুলো দুই ফসলি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা