kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

স্টেরয়েড ব্যবহার করে পশু মোটাতাজাকরণ

বিরূপ প্রভাব পড়ছে চামড়াশিল্পে

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পশু মোটাতাজা করতে স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ ডেক্সামেথাসন, বেটামেথাসন ও পেরিঅ্যাকটিন নিষিদ্ধ হলেও এসব ওষুধ অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এসব ওষুধ ব্যবহার করে মোটাতাজা করা গরু, মহিষ ও ছাগলের মাংস মানবদেহের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি চামড়ার গুণগত মানও হ্রাস পায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনিতে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের চামড়াশিল্প। এখন এর সঙ্গে যোগ হয়েছে স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকও।

চট্টগ্রামের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে যাতে খামারিরা স্টেরয়েড ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য তাঁরা কাজ করছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৭টি উপজেলা ও থানায় চার হাজারের বেশি গরুর খামার রয়েছে। এসব খামারে কমবেশি পাঁচ লাখ গরু রয়েছে। অনেক খামারে বা গোয়ালঘরে গোপনে স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

প্রাণী চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা করা পশু চঞ্চল হয়। গায়ে হাত রাখলে গরু নড়ে ওঠে। কিন্তু ওষুধ খাইয়ে মোটাতাজা করা পশু নড়াচড়া খুবই কম করে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেয়াজুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, স্টেরয়েড-জাতীয় ইঞ্জেকশন দেওয়া বা ট্যাবলেট খাওয়ানো পশুর মাংস খেলে মানুষের কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি দেখা দেয়। মাত্রাতিরিক্ত স্টেরয়েড ব্যবহারে পশুর মৃত্যুও ঘটতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে রপ্তানি পণ্যগুলোর অন্যতম একটি হচ্ছে চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য। নিম্নমানের চামড়া হলে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

এই কর্মকর্তা জানান, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় চট্টগ্রামে অভিযান পরিচালনা করছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নগরী ও জেলার বিভিন্ন ওষুধের দোকানে স্টেরয়েড-জাতীয় নিষিদ্ধ ওষুধের সন্ধানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু ওষুধের দোকানে স্টেরয়েড-জাতীয় নিষিদ্ধ ওষুধ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর হাটে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের মেডিক্যাল টিম থাকবে। ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টার্নরাও বাজার তদারক করবেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাকৃতিক উপায়ে বা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মোটাতাজা করা গরু বা মহিষের চামড়ার মানের চেয়ে স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধে মোটাতাজা করা পশুর চামড়ার গুণগত মান প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম। এসব পশুর চামড়ায় এক ধরনের ভাঁজের সৃষ্টি হয়। সে কারণে এসব চামড়া বিদেশি ক্রেতারা কিনতে চায় না।

লেদার ইঞ্জিনিয়ারস অ্যান্ড টেকনোলজিস্ট সোসাইটি, বাংলাদেশের সহসভাপতি মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, পশুর চামড়া আলাদা করার সময় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ, লবণ দিতে দেরি করায় প্রায় ৩০ শতাংশ এবং গাড়িতে করে পরিবহনের সময় আঁচড় লাগার কারণে ২০ শতাংশ কাঁচা চামড়া নষ্ট হচ্ছে। এখন এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধে মোটাতাজা করা কোরবানির পশুর চামড়ার নিম্নমান। এতে দেশের চামড়াশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধে গরুর কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যায়। মানবদেহের জন্যও তা মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব ওষুধ ব্যবহার করলে পশুর শরীর থেকে পানি বেরোতে পারে না। সরাসরি পশুর মাংসে পানি জমতে থাকায় পশু ফুলেফেঁপে ওঠে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা