kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৬  মে ২০২০। ২ শাওয়াল ১৪৪১

উলিপুরে ছেলেধরা গুজবে কাঠুরিয়াকে গণপিটুনি

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুড়িগ্রামের উলিপুরে ছেলেধরা সন্দেহে আলাউদ্দিন (৫০) নামের নিরীহ এক কাঠুরিয়াকে গণপিটুনির ঘটনায় এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার চৌমোহনী বাজার এলাকায় পল্লী উন্নয়ন রেসিডেনসিয়াল স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। এ খবরে আলাউদ্দিনের এলাকার লোকজন স্কুলে হামলা চালিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার এবং এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

গণপিটুনির শিকার আলাউদ্দিন উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের বগাপাড়া উচাভিটা গ্রামের ফুক্তুল আলীর ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক আব্দুল মমিন। তিনি ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কাঠুরিয়া আলাউদ্দিন প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজ শেষে গাছ কাটার করাত, কুড়াল ও রশি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চৌমোহনী বাজার এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন পল্লী উন্নয়ন রেসিডেনসিয়াল স্কুলের সামনে ওই স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী আলাউদ্দিনকে দেখে ছেলেধরা বলে চিৎকার করতে থাকে। এ ঘটনায় কাঠুরিয়া আলাউদ্দিন রাগান্বিত হয়ে ওই শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করেন। ওই সময় ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মমিন আলাউদ্দিনকে ধরে চড়-থাপ্পড় মেরে বের করে দেন। এ সংবাদ শোনার পর কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় ব্যক্তি শিক্ষক আব্দুল মমিনের সহযোগিতায় পুনরায় কাঠুরিয়াকে রাস্তা থেকে ধরে রশি দিয়ে বেঁধে স্কুলের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে বেধড়ক পিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করে একটি কক্ষে আটক করে রাখে। কিন্তু আলাউদ্দিন স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিত। ফলে তাঁকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই স্কুলে হামলা চালিয়ে ভেতরে থাকা সবাইকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ গিয়ে আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় এবং শিক্ষক আব্দুল মমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় গুজব ছড়িয়ে নিরীহ ব্যক্তিকে মারধর করার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে আব্দুল মমিনসহ অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, আলাউদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উলিপুর থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গুজব ছড়িয়ে নিরীহ ব্যক্তিকে মারধর করার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক মমিনকে গতকাল বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা