kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

জেলা নেতাদের দুষছে তৃণমূল

খুলনার উপজেলা ইউপিতে নৌকার প্রার্থীদের হার

কৌশিক দে, খুলনা   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘খুলনার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে হারে নৌকার প্রার্থীরা হারছে, তাতে আগামী দিনে হয়তো মানুষ নৌকায় ভোট দেওয়া ভুলে যাবে।’ জেলার পাঁচটি উপজেলা পরিষদ ও দুটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের পরাজয় প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি এই প্রতিক্রিয়া জানান আওয়ামী লীগের এক সমর্থক মেহেদী। শুধু মেহেদীই নন, এ নিয়ে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সমালোচনায় পড়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জেলা নেতারা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে পারেননি। তা ছাড়া জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একক কর্তৃত্ব রক্ষার চেষ্টা, দীর্ঘদিন সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন না হওয়ায় বেহালে আছে আওয়ামী লীগ। আবার নেতৃত্ব বঞ্চিত হয়ে হতাশ একসময়ের সাড়া জাগানো সাবেক ছাত্র-যুব নেতারা। এ অবস্থা চললে দলকে বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে। তবে জেলা নেতারা বলছেন, তাঁদের কারণে নয়, প্রার্থী মনোনয়নে ভুল হওয়ায় সমস্যা হয়েছে। জেলা কমিটিতে গণতান্ত্রিকভাবেই সিদ্ধান্ত হচ্ছে।

জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগে দীর্ঘদিন ধরে দুটি ধারা রয়েছে। একটির নেতৃত্ব দেন জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনর রশিদ, অন্যটির নেতৃত্ব দিতেন জেলা সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর (সুজা) মৃত্যু হয়। ফলে জেলায় একক কর্তৃত্ব এখন সভাপতির। তবে সুজার অনুসারীরা তাদের অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় চলতি বছর পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হলে উভয় পক্ষই নড়েচড়ে বসে। খুলনার ৯টি উপজেলার মধ্যে দুটিতে (ফুলতলা ও বটিয়ঘাটা) চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাত উপজেলার পাঁচটিতেই হেরেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। সব শেষ গত ২৫ জুলাই ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ও কয়রা উপজেলার সদর ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে।

তৃণমূলের নেতারা বলছেন, জেলা নেতাদের ব্যর্থতার কারণে নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীরা হেরেছেন। নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মীদের মাঠে নামাতে পারেননি। অনেক স্থানে নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন। নৌকার বিপক্ষে কাজ করতে উৎসাহ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে হুমকি দিয়েছেন। অথচ চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৎকালীন জেলা সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা রশিদী সুজার সম্মিলিত নেতৃত্বে ৯ উপজেলার আটটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয় পেয়েছিলেন। তখন দলের কেউ বিদ্রোহী হননি। অথচ এবার জেলা নেতারা কেউ বিদ্রোহ প্রশমনে কোনো উদ্যোগ নেননি। এমনকি সব শেষ দুটি ইউপির নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তের বিষয়টি জানেন না জেলার একাংশের নেতারা।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিৎ অধিকারী বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের পরাজয় নেতৃত্বের ব্যর্থতা নয়, প্রার্থী নির্বাচনে ভুল হয়েছে। কেন্দ্রে আমরা যাঁদের সুপারিশ করেছি, তাঁদের অনেকেই মনোনয়ন পাননি। ফলে নির্বাচনে পরাজয় হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা