kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ট্রেনে ঈদ যাত্রা

এসি টিকিটের মহাসংকট

মাত্র ১৫ শতাংশ এসি টিকিট দিতে পারছে রেলওয়ে

পার্থ সারথি দাস   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এসি টিকিটের মহাসংকট

ঈদ যাত্রার ১০ আগস্টের রেলের টিকিট দেওয়া হয় গতকাল। এদিনও কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল টিকিটপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ সারি। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদ যাত্রায় পরিবার-পরিজন নিয়ে যাত্রীদের বড় অংশ ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগিতে চড়তে চায়। তবে বাংলাদেশ রেলওয়েতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসন মাত্র ১৫ শতাংশ। এবার আগাম টিকিট বিক্রি শুরুর পর চার দিনে রাজধানীর কমলাপুরসহ পাঁচটি কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরুর প্রথম ঘণ্টাতেই এসি টিকিট শেষ বলে যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে যাত্রীরা ট্রেনের কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে বাসের টিকিট কিনতে ছুটছে।

গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনে গেলে যাত্রীরা এই সংকটের কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন কোচ এলে এ সংকট নিরসন হবে।

গত ২৯ জুলাই থেকে রেলসেবা অ্যাপস, অনলাইন ও রাজধানীর পাঁচটি স্থানে আগাম ট্রেন টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বিশেষ তিনটি ট্রেন ও ৩৪টি আন্ত নগরসহ ৩৭টি ট্রেনে গড়ে ২৭ হাজার ৮৮৫টি টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগির টিকিট আছে মাত্র চার হাজার ১৬২টি।

গতকাল অ্যাপসে, অনলাইনে ও কাউন্টারে ২৭ হাজার ৮৮৫টি টিকিট বিক্রি হয়। এর মধ্যে এসি বার্থ, এসি সিট ও এসি চেয়ার শ্রেণির চার হাজার ১৬২টি টিকিটের মধ্যে এসি বার্থের টিকিট ছিল ২৮৬টি, এসি সিট ৭৪৪টি ও এসি চেয়ার তিন হাজার ১৩২টি। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পশ্চিমাঞ্চলগামী ১৬টি আন্ত নগর ট্রেনের প্রতিটিতেই এসি আসনের চাহিদা ছিল প্রায় ১৫ গুণ।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা শাহীন আলম ৯ আগস্ট পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে চিলমারীর বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত বুধবার সকাল থেকে রেলসেবা অ্যাপসে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পাঁচটি এসি টিকিট পেতে শেষে কমলাপুর রেলস্টেশনের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। তবে কাঙ্ক্ষিত এসি শ্রেণির টিকিট পাননি তিনি। পরে যাত্রার দিন পরিবর্তন করে ১০ আগস্ট একই ট্রেনের টিকিটের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দুপুরে কালের কণ্ঠকে জানান, এসি টিকিট মিলছে না। বলা হচ্ছে, যাত্রার দিন আলাদা বগি যুক্ত হলে পরে হয়তো টিকিট মিলতে পারে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ১০টি কাউন্টারে দেখা গেছে, সকাল ৯টায় টিকিট বিক্রি শুরুর পর এক ঘণ্টার মধ্যেই এসি টিকিট দেওয়া শেষ হয়ে গেছে। ১৩ নম্বর কাউন্টারে খুলনা যাওয়ার চিত্রা ট্রেনের টিকিট পেতে প্রথম দাঁড়ানো ৩০ জনের মধ্যে এসি টিকিট চায় ২৫ জন। তবে প্রথম ১৫ জন টিকিট নেওয়ার পরই বলা হয়, এসি টিকিট শেষ।

কমলাপুর ছাড়াও বিমানবন্দর, তেজগাঁও ও বনানী রেলস্টেশন এবং ফুলবাড়িয়া পুরনো রেল ভবনে এসি টিকিট পেতে হয়রানিতে পড়ে টিকিটপ্রত্যাশীরা। যমুনা সেতু হয়ে পশ্চিমাঞ্চলগামী ১৬টি আন্ত নগর ট্রেনের টিকিট কমলাপুর রেলস্টেশনে বিক্রি করা হচ্ছে। গতকাল ১০ আগস্টের রংপুর এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, ধূমকেতু এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসের এসি টিকিট বিক্রি শুরুর এক ঘণ্টা পরই বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে যাওয়ার জন্য তিনটি এসি টিকিট চেয়ে একটিও পাননি আসাদুজ্জামান সৈকত।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল হক উদাহরণ টেনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা-রংপুর রুটের রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে এসি কেবিন ও এসি চেয়ারের টিকিট আছে ৮৮টি। এর তুলনায় টিকিটের চাহিদা ছিল কমপক্ষে ১৫ গুণ বেশি। কোচ বা বগি না থাকায় আমরা বেশি এসি টিকিট বিক্রি করতে পারছি না।’ 

গতকাল অ্যাপসে, অনলাইনে ও কাউন্টারে ২৭ হাজার ৮৮৫টি টিকিটের মধ্যে কমলাপুর রেলস্টেশনসহ পাঁচটি স্থানের কাউন্টারে ১৩ হাজার ৯৪৩টি টিকিট বিক্রি হয়। বাকি ১৩ হাজার ৯৪২টি টিকিট অনলাইনে রেলসেবা অ্যাপস ও অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। তবে কাউন্টারে বা রেলসেবা অ্যাপসে এসি টিকিট না পেয়ে যাত্রীরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্ত নগর ট্রেনের টিকিট বিমানবন্দর রেলস্টেশনে গতকাল বিক্রি হয়। ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী আন্ত নগর ট্রেনের টিকিট তেজগাঁও রেলস্টেশন, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জগামী ট্রেনের টিকেট বনানী রেলস্টেশন থেকে বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী আন্ত নগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হয় ফুলবাড়িয়ার পুরনো রেলভবন থেকে। আজ শুক্রবার বিক্রি করা হবে ১১ আগস্ট ট্রেন যাত্রার আগাম টিকিট। আর এর মাধ্যমে শেষ হবে আগাম টিকিট বিক্রির পর্ব। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা