kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

জাতিসংঘ কমিটিতে বাংলাদেশ

নির্যাতনবিরোধী আইন সংশোধনে পুলিশের দাবি মানা হবে না

বিশেষ প্রতিনিধি   

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্যাতনবিরোধী আইন সংশোধনে পুলিশের দাবি মানা হবে না

নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন সংশোধনে পুলিশের দাবি পূরণ করা হবে না বলে জাতিসংঘ কমিটিকে জানিয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার জেনেভায় নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘ কমিটিতে এসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, দাবি উত্থাপিত হলেও সরকার ওই আইন সংশোধন করে কাউকে আইনের আওতার বাইরের রাখেনি। তিনি নিশ্চিত করছেন, এই সরকার এমনটি করবে না। উল্লেখ্য, গত বছরের জানুয়ারি মাসে পুলিশ সপ্তাহে পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁদের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছিলেন বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এদিকে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দেশত্যাগ ও রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সিনহাকে বরখাস্ত করেনি। বরং এই সরকারই জ্যেষ্ঠতম বিচারক হিসেবে তাঁকে নিয়োগ দিয়েছিল।

ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করার দায়ে সরকারের বিরাগভাজন হয়েছিলেন বলে সিনহার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আইনমন্ত্রী বলেন, সিনহা ছাড়াও আরো চারজন বিচারক ওই রায় দিয়েছিলেন। তাঁরা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁদের মধ্যে একজন প্রধান বিচারপতি হয়েছেন।

সিনহার দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় সিনহার সহকর্মী বিচারকরাই তাঁর সঙ্গে বসে বিচারকাজ পরিচালনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

আলোকচিত্রী শহীদুল আলমকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি উসকানি দিয়েছিলেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।

শহীদুলের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের তথ্য দিয়ে আলোচিত-সমালোচিত প্রিয়া সাহা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশে ফিরলে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হবেন না। কিছু ব্যক্তি প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মামলা করলেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রিয়া সাহা ওই বক্তব্য দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতার কোনো অপরাধ করেননি। তিনি তাঁর এলাকায় জমি দখলের যে অভিযোগ করেছেন তার তদন্ত চলছে। প্রিয়া সাহা ও তাঁর সম্প্রদায়ের লোকজন বাংলাদেশে শান্তিতে থাকবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সংখ্যালঘু নির্যাতনের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয় না। ২০০১ সালে তথাকথিত নির্বাচনের পর বিএনপি সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল।

আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর আইন করে সেই হত্যার বিচার ঠেকিয়ে রাখা হয়েছিল। তৎকালীন স্বৈরশাসক খুনিদের বিদেশে কূটনৈতিক মিশনগুলোতে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পাঠিয়েছিল। সেখান থেকে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র ফেরার পর খুনিদের দায়মুক্তি আইন বাতিল করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার সরকার কাজ শুরু করেছে।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ‘জুডিশিয়াল অডিট’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশে কারো বিচার করতে বাধা নেই।

নির্যাতনের অভিযোগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিচার ও তদন্ত বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে জাতিসংঘ কমিটি। আইনমন্ত্রী আগামী দিনগুলোতে কমিটিকে এসব তথ্য দেবেন বলে জানিয়েছেন।

পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে জেনেভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহিরয়ার আলম, পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সচিব মোহাম্মদ শহীদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মানবাধিকারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার তুলে ধরেন। কমিটি আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের জন্য সুপারিশ গ্রহণ করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা