kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

বন্যায় বিধ্বস্ত পথ নিয়ে শঙ্কায় ঈদযাত্রীরা

সওজের ৬০০ কিমি বিধ্বস্ত
রেলের ৬০ কিমি

পার্থ সারথি দাস   

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানী থেকে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে গত ২৬ জুলাই বাসের আগাম টিকিট এবং ২৯ জুলাই ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির মধ্য দিয়ে। ঈদে বাড়ি যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি শুরু হলেও যাত্রীরা বন্যায় বিধ্বস্ত সড়ক ও রেলপথ নিয়ে এবার বেশ শঙ্কিত। অতি বৃষ্টি ও বন্যায় উত্তরের বিভিন্ন জেলার আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথের দুরাবস্থা এ উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

অবশ্য ঈদের আগেই বিধ্বস্ত সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ১০টি সড়ক জোনের অধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে উত্তরের আটটি রুটে ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি রয়েই গেছে। কারণ সেখানে বিকল্প রুটে ট্রেন চলছে।

প্রাথমিক তথ্যানুসারে, সওজ অধিদপ্তরের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৬০ কিলোমিটার রেলপথ বন্যায় ক্ষতির মুখে রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাঠে রেলের প্রকৌশলীরা সক্রিয় আছেন। তবে অনেক স্থানে পানি না কমায় স্থায়ী মেরামতকাজ শুরু করা যাচ্ছে না। ঈদের আগে ক্ষতিগ্রস্ত সব রেলপথে ট্রেন চালানোর চেষ্টা চলছে।’  

সওজ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি-বান্দরবান আঞ্চলিক মহাসড়ক ও কেরানীহাট-বান্দরবান জাতীয় মহাসড়ক, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি জাতীয় মহাসড়ক, সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ, নেয়ামতপুর-তাহিরপুর, কচিরঘাটি-বিশ্বম্ভরপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। সিলেট- মৌলভীবাজারের আঞ্চলিক মহাসড়ক, শেরপুর-জামালপুর মহাসড়ক, সিলেট-গোয়াইনঘাট মহাসড়ক, শ্যামপুর-দুর্গাপুর মহাসড়ক, রংপুর-কুড়িগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক, যশোর-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক, টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর-তারাকান্দি সড়ক। কুড়িগ্রামে ৭২ কিলোমিটার কাঁচা ও ১৬ কিলোমিটার পাকা সড়ক স্থানে স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাইবান্ধা শহরের সড়কগুলোও পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাজার সেকশন ও জামালপুর-তারাকান্দি সেকশনের সরিষাবাড়ী-বয়ড়া স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে রেলপথ পানিতে তলিয়ে গেছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত কাজ করে রেলওয়ের প্রকৌশলীরা তা মেরামত করতে পেরেছেন। তবে বন্যার পানি সরে না গেলে স্থায়ী মেরামত করা যাবে না বলে জানিয়েছেন রেলসচিব।

এই রেলপথ বিধ্বস্ত থাকায় তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, অগ্নিবীণাসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সব ট্রেন দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও তারাকান্দি পর্যন্ত চলাচল না করে জামালপুর স্টেশন পর্যন্ত চলছে।

বাদিয়াখালী রোড-ত্রিমোহনী জংশন স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে বন্যার পানিতে রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ঢাকা-লালমনিরহাট রুটের লালমনি এক্সপ্রেস ঢাকা-সান্তাহার-বগুড়া-বোনারপাড়া-কাউনিয়া-লালমনিরহাটের পরিবর্তে ঢাকা-সান্তাহার-পার্বতীপুর-লালমনিরহাট রুটে চলছে। রংপুর এক্সপ্রেস ঢাকা-সান্তাহার-বগুড়া-বোনারপাড়া-কাউনিয়া-রংপুর রুটের বিকল্প হিসেবে ঢাকা-সান্তাহার-পার্বতীপুর-রংপুর রুটে চালানো হচ্ছে। দিনাজপুর-সান্তাহার-দিনাজপুর রুটের বদলে দিনাজপুর-গাইবান্ধা-দিনাজপুর রুটে দোলনচাপা ট্রেন চালানো হচ্ছে। পদ্মরাগ ট্রেন বাদিয়াখালী স্টেশনে আটকা পড়েছে বলে সান্তাহার-লালমনিরহাট-সান্তাহার রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।  রেলসচিব জানান, গাইবান্ধা সেকশনে রেলপথ ঈদের আগে মেরামত করার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যশোর অংশে ৩৮ কিলোমিটার বিধ্বস্ত হয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ১৩টি স্থানে পিচ উঠে গেছে। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের সৈয়দপুর, আউশকান্দি, রুস্তমপুর, সদরঘাট, দেবপাড়া ও বাহুবলের মিরপুরে বাস চলে ধীর গতিতে। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ১৭ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা