kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

শত বাধা পেরিয়ে

ব্রেইলে পড়াশোনা বাধা হয়নি রাফির

আবদুল হাকিম রানা, পটিয়া (চট্টগ্রাম)   

২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্রেইলে পড়াশোনা বাধা হয়নি রাফির

চট্টগ্রামের পটিয়া সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন রাফি। তিনি পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতেও  জিপিএ ৫ পেয়ে মেধার স্বাক্ষর রাখেন।

পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের শিক্ষক মৃত আজহার উদ্দিনের ছেলে রাফি। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রাফি সবার ছোট। ২০১৫ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরেন বড় বোন ভাটিখাইন নলিনীকান্ত মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির শিক্ষিকা রিফাত আরা আঁখি। তিনি সংসারের খরচের পাশাপাশি ভাইয়ের পড়ালেখার খরচ বহন করে তাঁকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

রিফাত আরা আঁখি বলেন, ‘আজ বাবা বেঁচে থাকলে তিনি অনেক খুশি হতেন। কারণ রাফির এগিয়ে চলার প্রধান প্রেরণা আমাদের বাবা। আমি এটুকু বলতে চাই, ইচ্ছাশক্তি থাকলে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ভালো ফলাফল করা যে সম্ভব, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাফি। সবার কাছে অনুরোধ, প্রতিবন্ধীদের বোঝা হিসেবে নেবেন না। তাদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটানোর সুযোগ করে দেবেন। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পদে পরিণত হওয়া তাদের পক্ষেও সম্ভব।’

পটিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পাওয়া কঠিন ব্যাপার। তার ওপর রাফি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সে যে সাফল্য পেয়েছে, তা সবার জন্য অনুস্মরণীয়। আমাদের ব্রেইল বইয়ের সংকট রয়েছে। তার পরও রাফি খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করত। সে সব সময় ক্লাসে উপস্থিত থাকত।’

তিন বছর বয়সে দৃষ্টি হারানো রাফি বলেন, ‘সাফল্যের জন্য আমি আমার বাবা, বড় বোন, কলেজ শিক্ষক ও বন্ধুদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে আমি ইংরেজি বিষয়ে অধ্যাপনা করতে চাই। তার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ জন্য আমি সবার দোয়া চাই।’

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হাসান বলেন, ‘রাফির এ ফলাফল সব প্রতিবন্ধীর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। অনুপ্রেরণা পেলে তারাও যে ভালো ফলাফল করতে পারে, রাফি তা দেখিয়ে দিয়েছে। আমি মনে করি, তারা অনুকম্পা নয়, সহযোগিতা চায়।’

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা