kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

বনিবনা হচ্ছে না প্রার্থী নিয়ে

এরশাদের শূন্য আসনে উপনির্বাচন

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিতে (জাপা) দেখা দিয়েছে মতানৈক্য। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাপার আসন সমঝোতার সূত্রে এ আসনে প্রার্থী ছিলেন জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ এবং তিনি বিজয়ী হন। এখন এরশাদের অবর্তমানে তাঁর শূন্য আসনের উপনির্বাচনেও জাপা এ আসনে ‘সমঝোতামূলক ছাড়’ আশা করছে দীর্ঘদিনের নির্বাচনী মিত্র আওয়ামী লীগের কাছে। ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জাপাসহ সমমনা দলগুলো নিয়ে মহাজোট হয় এবং ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয় মহাজোট। এর পরের দুটি জাতীয় নির্বাচনের শেষ দিকে এসে আসন সমঝোতা হয় আওয়ামী লীগ ও জাপার মধ্যে। কিন্তু এরশাদের শূন্য আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ আগের দুইবারের মতো সমঝোতা করে জাপাকে ছাড় দিতে চাইছে না। তারা ঘোষণা দিয়েছে উপনির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার। কিন্তু জাপা চাইছে ২০০৮ সালের মহাজোটের আমেজে বা পরবর্তী দুই নির্বাচনে আসন সমঝোতার ফর্মুলায় ওই আসনে আওয়ামী লীগ যাতে প্রার্থী না দেয়।

গত ১৪ জুলাই সকালে মারা যান জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদ। ১৬ জুলাই জাতীয় সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে রংপুর-৩ (সদর) আসনে উপনির্বাচন হবে। এরশাদের অবর্তমানে আসনটি ধরে রাখা এখন জাপার স্থানীয় নেতাকর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রংপুর অঞ্চলে দলের প্রভাব বাড়াতে আওয়ামী লীগ এই উপনির্বাচনকেই মোক্ষম সুযোগ বলে মনে করছে।

এই উপনির্বাচন নিয়ে সাবেক মহাজোটের শরিক দুই দলের দুই মেরুতে অবস্থান নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আওয়ামী লীগ নৌকার প্রার্থী দিয়ে আসনটি নিজেদের করে নিতে চাইছে। আর জাপা তাদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে আসনটিকে দখলে রাখতে চাইছে। তাদের চেষ্টা থাকবে ‘মহাজোটগত’ স্টাইলে বা সমঝোতার দোহাই দিয়ে নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরে রাখা। তবে শেষ ‘শিকে না ছিঁড়লে’ তারা চাইবে যোগ্যতম প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে পারিবারিক ও রাজনৈতিক দুটি বিষয়ই আছে। জাপার প্রেসিডিয়াম বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে গত শনিবার রংপুরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দেবে। এখানে মহাজোটগতভাবে নির্বাচন হবে না।’

রাজনৈতিক বিভিন্ন সূত্র বলছে, রংপুর-৩ আসনটি আওয়ামী লীগ তাদের করে নিতে এখন মরিয়া। রংপুর বিভাগে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রমাণ দিতে চায় তারা। সে ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে যাতে আসনটিতে ‘সমঝোতা’ বা ‘মহাজোটবদ্ধ’ নির্বাচন না হয়, সে লক্ষ্যেই চলছে তাদের লবিং। এ ছাড়া রংপুরের বাতাসে চাউর হয়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এখানে নির্বাচন করছেন।

এসব কারণে রংপুর-৩ আসনটির উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী বাছাই করতে চায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এখন জাতীয় পার্টির সামনে পারিবারিক ও রাজনৈতিক দুটি ফ্যাক্টর রয়েছে। পারিবারিকভাবেই প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও এর বাইরের প্রার্থীও আলোচনায় এসেছেন। কারণ হিসেবে নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, ব্যক্তি এরশাদের পারিবারিক বলয় রংপুরের রাজনীতিতে খুব একটা প্রভাব তৈরি করতে পারেনি। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় ধারাই নিয়ামক হবে।

এদিকে পারিবারিক ও দলীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, পারিবারিকভাবে প্রার্থিতার আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে এরশাদের ছোট ভাই আমেরিকাপ্রবাসী হুসেইন মুহম্মদ মোর্শেদ আপেল, জ্যেষ্ঠ পুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, ভাতিজা প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালেদ আখতার ও ভাগ্নিজামাই জিয়া উদ্দীন বাবলুর মধ্যে। অন্যদিকে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকেও প্রার্থিতার আলোচনায় রেখেছেন অনেকেই। সে ক্ষেত্রে তিনি প্রার্থী হলে তাঁর নিজের জেতা লালমনিরহাট-৩ আসনটি ছেড়ে দিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা