kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

রেডিওথেরাপি যন্ত্র সাত বছর ধরে বাক্সবন্দি!

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার রোগীদের রেডিওথেরাপি দেওয়ার জন্য যন্ত্রটি সাত বছর ধরে বাক্সবন্দি আছে। কোথায়, কিভাবে স্থাপন করা হবে তা-ই চূড়ান্ত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্বতন্ত্র রেডিওলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে। এর জন্য বহু কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন আছে। এতে আছে চিকিৎসার জন্য যন্ত্রপাতি স্থাপনের কক্ষ, রোগীদের শয্যা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বসার কক্ষ। কক্ষগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। বিভাগীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও আছেন। তবে যন্ত্রের অভাবে এখানে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। যদিও রেডিওথেরাপির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রটি আসে ২০১২-১৩ অর্থবছরে। সাত বছর আগে আসা যন্ত্রটি এখনো স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

রেডিওথেরাপি যন্ত্রটি কোথায় এবং কিভাবে স্থাপন করা হবে তা নিয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একাধিকবার চিঠি চালাচালি হয়েছে। তবে কোনো সুরাহা হয়নি। এর প্রধান সমস্যা হচ্ছে, সাধারণ মানের ভবনে এই যন্ত্রটি স্থাপন করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন বিশেষ ভবন, যার দেয়াল হতে হবে কমপক্ষে ১৫ ফুট চওড়া। এমনকি ছাদও হতে হবে ১৫ ফুট পুরো। কারণ এর বিকিরিত রশ্মি বাইরে গেলেই তেজস্ত্রিয়তায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।  

রেডিওথেরাপির রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও কাউকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সেবা দিতে পারছে না। স্থানান্তর করা হচ্ছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কিংবা মহাখালীতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘রেডিওথেরাপির লিনিয়র অ্যাকসেলারেটর মেশিনটি যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি চালানোর প্রক্রিয়াও জটিল। শুধু এই মেশিনটি পাঠালেই তো সব হবে না। প্রথমেই প্রয়োজন মেশিনটি বসানোর জন্য বাংকার। আর এ জন্য দরকার অর্থ। আর চালানোর জন্য প্রয়োজন টেকনিক্যাল লোক। কিন্তু কোনো কিছুই না দিলে আমরা মেশিনটি চালাব কী করে! আর এ নিয়ে অনেকবার লেখালেখি হয়েছে, কিন্তু লাভ হয়নি।’

 

মন্তব্য