kalerkantho

বাংলাদেশি ভিসা পেয়েছে ৯২ দেশের ৩৮ হাজার নাগরিক

চট্টগ্রাম ভিসা অফিসের ৭ বছর

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানাধীন মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে বাংলাদেশি ভিসা ইস্যু শুরু হয় ২০১২ সালের ১ এপ্রিল। এরপর গত ৩০ জুন পর্যন্ত সাত বছর দুই মাসে এই পাসপোর্ট অফিসে বাংলাদেশি ভিসার জন্য ৪০ হাজার ৩২১ জন বিদেশি নাগরিক আবেদন করেন। এর মধ্যে ৩৮ হাজার ২১৬ জনকে ভিসা দেওয়া হয়েছে। আর এর মধ্যে রয়েছে ৯২টি দেশের নাগরিক। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, চীন, জাপান ও ভারতের মতো দেশের নাগরিকরা যেমন আছেন তেমনি আছেন ডাচ এন্টিলিস, টোঙ্গা, টোগোলিজের মতো দেশের নাগরিকরা। মূলত ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্যই তাদের এ আবেদন।

বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস সূত্র জানায়, ভিসা ইস্যু করে এ সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ২৯ হাজার ৯১১ টাকা। আর সর্বোচ্চ ভিসার আবেদন এসেছে ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে। এই সাত বছরে ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে ১১ হাজার ৫৬৯টি আবেদন গ্রহণ করে চট্টগ্রাম ভিসা অফিস। এ ছাড়া ইদানীং রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে এন-ক্যাটাগরির ভিসা বা এনজিও ভিসার জন্য আবেদন জমা পড়ছে।

চট্টগ্রাম ভিসা অফিসে মোট ৩৩ ক্যাটাগরির ভিসা ইস্যু করা হয়। এর মধ্যে পর্যটন ভিসা সর্বোচ্চ এক মাসের জন্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা এক বছর এবং ওয়ার্ক পারমিট ভিসা এক থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। চট্টগ্রাম অফিসে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদনকারীদের বেশির ভাগ ইউএসটিসি, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ও কুমিল্লা ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের উপপরিচালক আবু নোমান জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখানে ভিসা বর্ধিতকরণের জন্য যাঁরা আবেদন করেন তাঁদের বেশির ভাগ মূলত ই-ক্যাটাগরি এবং এস-ক্যাটাগরির। অর্থাৎ চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের আবেদন বেশি। চাকরিজীবীদের সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে সাধারণত এক দিন পরই ভিসা দিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পুলিশ রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে ভিসা ইস্যু করা হয়।’

মনসুরাবাদ পাসপোর্ট অফিসের তৃতীয় তলায় ভিসা শাখাকে ‘ভিসা জোন’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এ জন্য ভিসা শাখায় ওয়াইফাই, ঠাণ্ডা পানি, টেলিভিশন স্থাপন করা হয়েছে। আসবাব ও সাজসজ্জায়ও রাখা হয়েছে আধুনিকতার ছাপ।

প্রতিদিন বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০টি ভিসার আবেদন জমা পড়লেও এ শাখায় মাত্র একজন কর্মী কাজ করছেন। ভিসা জমা থেকে শুরু করে নিষ্পত্তি সব কাজই এ একজনকে করতে হয়।

কারণ জানতে চাইলে উপপরিচালক আবু নোমান জাকির হোসেন বলেন, ‘এ শাখায় অন্তত তিনজন লোক থাকলে কাজ আরো দ্রুতগতিতে হতো। কিন্তু আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। এত সংকটের মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

মন্তব্য